Published : 06 Sep 2026, 10:10 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
রোববার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং আইবিএ পরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারী ওয়াসেল বিন সাদাতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুরাদ হোসাইন।
রিট আবেদনে বলা হয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর ওয়াসেল বিন সাদাতকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাইব্যুনাল গঠনের আইনি বিধান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করেনি।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদনও জমা দেয়নি, ফলে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। তাছাড়া রিটকারীকে ওই প্রতিবেদনের কোনো কপি বা শুনানির সুযোগও দেওয়া হয়নি, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী মুরাদ হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হয়। কিন্তু উনার (ওয়াসেল বিন সাদাত) ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল গঠন না করেই কেবল তদন্ত রিপোর্টের আলোকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন। এর বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। রবিবার আদালত রুল জারি করেছে।”
গত ৬ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওয়াসেল বিন সাদাতকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের অগাস্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, তার থিসিসের এক্সটারনাল হিসেবে দায়িত্বরত শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতের কক্ষে তিনি থিসিস জমা দিতে যান। এ সময় শিক্ষক ওয়াসেল অমার্জিত আচরণ করেন এবং তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করেন। ছুটির দিন থাকায় সে সময় অ্যাকাডেমিক ভবন ফাঁকা ছিল।