২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কেন? কার্ডিনাল ডি’রোজারিও বলছেন, কারণটা ধর্ম নয়

“আমি মনে করি, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণ ধর্মের উপর বর্তায় না। বরং এটার পেছনে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, মানবাধিকার পরিস্থিতি… এসব কিছু সমস্যা ও বিরোধ তৈরি করছে।”

মাসুম বিল্লাহ

সৌমিক হাসীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Apr 2023, 02:53 PM

Updated : 23 Apr 2023, 03:09 PM

ধর্ম নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও বিরোধের ‘পেছনের কারণ’ বলে মনে করেন ঢাকার অবসরপ্রাপ্ত আর্চ বিশপ, কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

বাংলাদেশে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এই ধর্মীয় নেতা বলছেন, সংঘাতের পেছনে ধর্মীয় কারণ না থাকলেও অনেক সময় নাম-পরিচয়ের কারণে ধর্মের রঙ পায়।

দেশের মানুষের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা কমছে- এটাও মনে করেন না বাংলাদেশ থেকে প্রথম কার্ডিনাল হওয়া প্যাট্রিক ডি’রোজারিও। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান করার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে বলছেন তিনি।

এক্ষেত্রে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। আর ঈদ, পূজা ও বড়দিনের মত বড় ধর্মীয় উৎসবগুলো মানুষের মধ্যে সংলাপ ও সংযোগ তৈরি করে বলেই তার বিশ্বাস।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ইনসাইড আউট’ এর বিশেষ পর্বে যোগ দিয়েছিলেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও। ৮০ বছরের জীবনে খ্রিষ্টীয় ধর্মচর্চার সঙ্গে থেকে বাংলাদেশকে দেখার অভিজ্ঞতা উঠে আসে তার কথায়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি আর আন্তঃধর্মীয় সংলাপ থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের প্রেক্ষাপটে সংঘাত নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণ ধর্মের উপর বর্তায় না। বরং এটার পেছনে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, মানবাধিকার পরিস্থিতি… এসব কিছু সমস্যা ও বিরোধ তৈরি করছে।”

বরিশালের সন্তান প্যাট্রিক ডি’রোজারিও ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে বিএ পাস করে গত শতকের ষাটের দশকে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যান পাকিস্তানের করাচিতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন, পরের বছর শুরু হয় তার পুরোহিতের জীবন।

রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালে ঢাকার আর্চবিশপ হন ডি’রোজারিও। ২০১৬ সালে ভ্যাটিকান এই ধর্মযাজককে কার্ডিনাল ঘোষণা করে। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র তিনিই কার্ডিনাল হতে পেরেছেন।

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আর্চবিশপের পদ থেকে অবসরে যান কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও। ফেলে আসা বছরগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সহনশীলতার ক্ষেত্রে দুয়েক জায়গায় ঘাটতি থেকে গেলেও মোটাদাগে পরিস্থিতি উন্নতির দিকেই গেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাই, কিন্তু আমি মনে করি যে, আমরা যত সহিষ্ণুতা অর্জন করব, যত অন্যের প্রতি সহনশীল হব, ততই দেখব আরও বড় পরিসরে সহিষ্ণুতার দাবি থাকছে। আর সেটাই ঘটছে।

“বিশ্ব সহিষ্ণুতার দিকে এগিয়েছে, অনেক আয়োজন ও অর্জন হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি আরও হওয়া উচিত, এ কারণে আমরা আরও বেশি সহিষ্ণুতার দাবি জানাই। তখন মনে হয়, সহনশীলতা হয়ত কমেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করলে আমি মনে করি, আমরা উন্নতি করছি। সহনশীলতার প্রেরণার জায়গায় আমরা এগোচ্ছি।”

কেবল সহিষ্ণুতা কিংবা সহনশীলতার লক্ষ্যে না এগিয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সবার মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আপনি সহনশীল হতে পারেন, কিন্তু আপনি হয়ত অন্যের মর্যাদা, মানবতা ও ব্যক্তি মানুষের সত্তাকে তুলে ধরছেন না।

“আমি মনে করি, কেবল সহনশীল হওয়ার কথা বললে তা নেতিবাচক হবে। ইতিবাচক হবে যদি সংহতি, শান্তি, সৌহার্দ্য ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের প্রসার ঘটে। এটাই আমাদেরকে করতে হবে।”

Image

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আর্চবিশপের পদ থেকে অবসরে যান কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

‘ধর্মের রঙ দেওয়া হয়’

ধর্মীয় কারণ না থাকলেও নাম-পরিচয়ের কারণে সংঘাত ও বিরোধের ক্ষেত্রে অনেক সময় ধর্মের রঙ দেওয়া হয় বলে এক প্রশ্নে মন্তব্য করেন কার্ডিনাল ডি’রোজারিও।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। মানুষের ধর্মীয় পরিচয় যেমন আছে, সাংস্কৃতিক পরিচয়ও রয়েছে। এই পরিচয়টা মৌলিকভাবে সাম্প্রদায়িক নয়।

“এ কারণে মনে করি, ধর্মীয় বিরোধের কারণ অন্য কোথাও নিবদ্ধ। এটার পেছনে রয়েছে শিক্ষার অধিকার, বাসস্থানের অধিকার, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রভৃতি রয়েছে। আমি মনে করি, এটার (বিরোধের) পেছনে ধর্মীয় কারণ থাকে না। এটাকে রঙ দেওয়া হয় ধর্মীয় বিরোধ হিসাবে।”

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, অনেক সময় মানুষ সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত থাকে, আবার নৃগোষ্ঠী বা সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত। সমাজে অনেক মানুষ তাদের অধিকারটা সেভাবে পায় না। সেখান থেকে বিরোধ হয়, সংঘাত হয়।

“সে যেহেতু মুসলিম বা খ্রিস্টান বা হিন্দু, আমরা বলি যে, এটা ধর্মীয় বিরোধ। কিন্তু দেখা যায়, বিরোধটা ধর্মীয় নয়। বিরোধটা সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে, পাশাপাশি মানবাধিকারের ক্ষেত্রে।”

অতীতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের বিরোধের ক্ষেত্রেও ধর্মের চেয়ে অন্যান্য বিষয় মুখ্য ছিল বলে মনে করেন এই ক্যাথলিক ধর্মগুরু।

তিনি বলেন “আমি মনে করি, ধর্মের ভূমিকাকে খুব বেশি পরিমাণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে মেলানো উচিত হবে না। তবে এসব ক্ষেত্রে বার্তা দেওয়ার সুযোগ ধর্মের থাকবে। কিন্তু রাজনীতির স্বাতন্ত্র্য ও অর্থনীতির স্বাতন্ত্র্য, সামাজিক বিজ্ঞানে এসব স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করতে হবে।”

এসব ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

পুরনো খবর:

পথশিশুদের সঙ্গে ইফতার কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও’র
এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের: প্যাট্রিক ডি রোজারিও

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের কী করণীয়

ধর্মীয় ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি খুব বেশি কিছু করার সুযোগ না থাকলেও সবার ধর্ম পালনের সুযোগ তৈরিতে রাষ্ট্রযন্ত্র ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “নাগরিকের যদি সমস্যা হয়, তাহলে সরকারকে সেখানে দেখতে হবে। সরাসরি ধর্মীয় ভূমিকা পালনের সুযোগ সরকারের নেই।

“কিন্তু সরকারকে সাধারণের উপকারের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে প্রত্যেক ধর্মের প্রত্যেক ব্যক্তি তার ধর্ম পালন করতে পারে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

নিজেদের ধর্মকে নিজেদের ধর্মমতে পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের নিজস্ব দায়দায়িত্ব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমার কাছে অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিরা শত্রু নয়, তারা আমার বিরোধীপক্ষ নয়। তারা ভিন্ন রকম হলেও আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা তাদের ধর্ম পালন করছে, পালনের ক্ষেত্রে কোনো সময় তারা ব্যর্থ হয়, যেভাবে আমরাও ব্যর্থ হই। ফলে কোনো ধর্মকে নিচু করে দেখার কিছু নাই।”

তার মতে, সরকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার ধর্মীয় নেতাদেরকে ডেকে এ বিষয়ে বলার জন্য উৎসাহিত করতে পারে, যেভাবে বাংলাদেশে বছর পাঁচেক আগে করা হয়েছিল।

অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অভাব আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আন্তঃধর্মীয় সংলাপের উপস্থিতি আমাদের এখানেও রয়েছে। আমরা তৃণমূল পর্যায়ে এটা অনেক বেশি দেখব। উচ্চ পর্যায়েও রয়েছে। তবে মধ্যবর্তী পর্যায়ে আমাদের বোধহয় কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।”

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সংলাপ, মানবাধিকার কমিশনের সংলাপের উদাহরণ এ প্রসঙ্গে টানেন তিনি।

এনজিওগুলোর কাজের মধ্য দিয়েও এক ধরনের সংলাপের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, “ক্যাথলিক চার্চের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল খ্রিষ্টানরা চালায় না, অন্য ধর্মের লোকেরাও সবখানে রয়েছে।”

গুজব, সোশাল মিডিয়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানোয়াট ও আংশিক তথ্য দিয়ে সংঘাত তৈরির বিষয়ে এক প্রশ্নে কার্ডিনাল ডি’রোজারিও বলেন, “কোনো ঘটনা ঘটলে মানুষ বস্তুনিষ্ঠভাবে সত্যটা জানতে চায়। কিন্তু কোনো কোনো সময়, সবসময় না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়।

“আর তাতে দেখা যায়, শুধু নেতিবাচক দিক কিংবা পুরোটা না বলে আংশিক তুলে ধরা হচ্ছে। সে সময় আমরা বলি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিরোধ উসকে দিচ্ছে। আমি মনে করি মূলধারায় গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।”

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যে কেউ যা তা বলে দিচ্ছে। আর এটা কোনো কোনো সময় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

“এ কারণে আমি মনে করি, যে কোনো ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং বস্তুনিষ্ঠভাবে কোনো ঘটনার কারণ তুলে ধরা দরকার। এবং কোনো ঘটনার বিষয়ে মতামত বা প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সময় নেওয়া উচিত।”

এভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কারও কারও ‘ব্যক্তিগত ভিন্ন উদ্দেশ্যও’ কাজ করে বলে মন্তব্য করেন এই ধর্মীয় নেতা।

তিনি বলেন, “মূল বিষয় হওয়া উচিত সামগ্রিক ভালো করার। কেবল মন্দ খবর ছড়িয়ে দেওয়া নয়। সামাজিক সমস্যা দূর করার বিষয়টা এর কেন্দ্রে রাখা যায়।”

Image

মিরপুরে কারিতাসের মটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সম্মেলন কক্ষে পথশিশুদের সঙ্গে ইফতারে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও

কার্ডিনালের রোজা আর ঈদের অভিজ্ঞতা

এ বছর রোজার মাসে পথশিশুদের সঙ্গে ইফতার করে ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়ার কথা তুলে ধরেন কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

তিনি বলেন, এই শিশুদের সঙ্গে আলাপন ও ভালোবাসার প্রকাশের জন্য সেই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল, এর উদ্দেশ্য ছিল এটা প্রকাশ করা যে, ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না, ধর্ম একসঙ্গে কাজ করার এবং একসঙ্গে চলারও শিক্ষা দেয়।

সেই ইফতার অনুষ্ঠানে শিশুরা তার মুখে খাবার তুলে দিয়েছিল জানিয়ে ডি’রোজারিও বলেন, “তাদের হয়ত দেওয়ার সামর্থ্য নেই, কিন্তু তাদের মধ্যে সেই আন্তরিকতা ও ইচ্ছাটা আছে দেওয়ার। দরিদ্রদের মধ্যে দানের প্রবণতা আছে, এটাই অসাধারণ।”

রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারেও পুরো রোজার মাস শতাধিক রোজাদারকে ইফতারি দেওয়ার নজির তৈরি করেছে। এটাকে ‘নিশ্চিতভাবে ভালোবাসার প্রকাশ’ বলেই মনে করেন খ্রিস্টান ধর্মগুরু প্যাট্রিক ডি’রোজারিও।

তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বন্ধন তৈরি করে। এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজের ক্ষেত্রে ধর্ম কোনো বাধা হতে পারে বলে আমি মনে করি না।

“ঈদ, বড়দিনের মত অনুষ্ঠান মানুষের সম্মিলন ঘটায় এবং এটা ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসার ঘটায়।”

ঈদ ও পূজায় শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার অবসরপ্রাপ্ত এই আর্চবিশপ বলেন, “সেখানে আমরা বলি, আসুন একসাথে হই, কারণ আমরা সবাই ভাইবোন। এর মাধ্যমে আমরা মানবতার, ভ্রাতৃত্বের উদযাপন করি।”

একীভূত স্বেচ্ছাসেবা

এক প্রশ্নের উত্তরে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, এনজিও ও ধর্মীয় সংস্থাগুলো যদি কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উপায়ে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একীভূত প্ল্যাটফর্মে কাজ করে, সেটা হতে পারে একটি ভালো ‘পন্থা’।

“আবার চ্যারিটির রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র। ধরুন, একজন লোক যদি এই মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সমস্যার মধ্যে পড়ে, তখন আমরা বলি না যে, এখন প্রকল্প নিতে হবে, কারণ তার তাৎক্ষণিক সাহায্য দরকার। সে সময় পরিকল্পনা করার সময় নেই।

“কেউ যদি আপনার সামনে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, কী করবেন? যেমন মাদার টেরিজার ক্ষেত্রে হয়েছে, একটি শিশুকে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে তুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। তিনি পরিকল্পনা ও সংগঠনের জন্য বসে থাকেননি।”

দরিদ্রদের জন্য ধনীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরির কথাও বলেন এই ধর্মীয় নেতা।

ইউক্রেইনে চলছে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’

পোপ ফ্রান্সিস সংলাপের মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে এক প্রশ্নে মন্তব্য করেন কার্ডিনাল ডি’রোজারিও। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ কিন্তু খ্রিষ্টানদের মধ্যে যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধ বড় বড় ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে।

“এটা অর্থনৈতিক যুদ্ধ, কীভাবে অস্ত্র বিক্রি করতে হবে, কোথায় অস্ত্র বিক্রি করতে হবে– এটা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ কারণে আপনি দেখবেন, ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রে পুরো পৃথিবী বিভক্ত, প্রত্যেকেই।”

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে এই যুদ্ধের জেরে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে কথা তুলে ধরে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষ যুদ্ধ করছে, অন্য প্রান্তের মানুষও ভুগছে।

“এটা কেন ঘটছে? কারণ, তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, তোমরা হত্যা করছ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছ?”

তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধই ভিন্ন রূপে হচ্ছে বলে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসার কথা তুলে ধরেন এই ক্যাথলিক ধর্মীয় নেতা।

পৃথিবীর সম্পদে সবার সমান অধিকার থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাত্র ২০ ভাগ মানুষ বৈশ্বিক সম্পদের ৮০ ভাগ সম্পদের মালিক, এটা ঠিক নয়।”

২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিসের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছিলেন পোপ। পাশাপাশি তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়া এবং মানবিক অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন।

“পোপ ফ্রান্সিস তাদেরকে তার হৃদয়ে ও প্রার্থনায় রেখেছেন। সবসময় এবং এখনো।”