Published : 15 Jan 2026, 04:43 PM
দেড় দশক আগে ঢাকার জিয়া উদ্যানে ইউনিভার্সিটি অব অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্টের (ইউডা) শিক্ষার্থী শামীম হাসান হত্যা মামলায় সহপাঠী চৌধুরী মো. জুলকারনাইন ওরফে মনি’র মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন।
দণ্ডিত জুলকারনাইন হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জ থানার পশ্চিমবাগ গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
সাজার তথ্য জানিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান বলেন, “আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় শামীম হাসান ও জুলকারনাইন ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা আদাবরে একই কক্ষে থাকতেন। পরীক্ষার ফি জমা দিতে শামীমের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চায় জুলকারনাইন। তবে শামীম টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন জুলকারনাইন।
এরপর ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে শামীমকে হোটেল এরামে নিয়ে যায় জুলকারনাইন। তিনি শামীমকে মদ সেবন করালেও নিজে বিরত থাকেন। এরপর মদ্যপ অবস্থায় শামীমকে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে পরীক্ষার ফির জন্য ল্যাপটপ ও মোবাইল বিক্রি করতে শামীমের কাছে লকারের চাবি চায় জুলকারনাইন। শামীম চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন জুলকারকারনাইন; চেহারা বিকৃত করতে মুখে ছুরিকাঘাত করেন। পরদিন পুলিশ শামীমের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শামীমের চাচা ৮ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ১৩ মার্চ জুলকারনাইনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার তৎকালীন এসআই জহুরুল হুদা।
ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এরপর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হলো।