Published : 10 May 2026, 07:42 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, “সীমান্ত কখনোই মানুষের জীবনহানির ক্ষেত্র হতে পারে না। বরং তা হওয়া উচিত আইনের শাসন, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।”
গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দু্ইজন নিহত হন। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ধজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৫৫)।
ওই ঘটনায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীর সহায়তায় ভারতের অভ্যন্তরে ধ্বজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। ভারত থেকে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের টহল দল তাদের বাধা দেয়।
বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যর ওপর ‘চড়াও’ হলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে দুটি ছররা গুলি করে। তাতে মো. মুরসালিন এবং আরো একজন আহত হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হওয়ার তথ্য বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে দেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে আসক বলছে, “কোনো ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে কিংবা চোরাচালান বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে। বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
“পৃথিবীর বহু দেশের সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায় না। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী জীবন রক্ষার বাধ্যবাধকতা সর্বাগ্রে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।”
আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারী থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী কর্তৃক গুলি ও নির্যাতনে নিহত হন।
সংস্থাটি বলছে, “বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারংবার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সীমান্তে গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের।”
বাংলাদেশ সরকারকে দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক আলোচনায় সীমান্ত হত্যার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আসক বলছে, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের স্বার্থে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি। সীমান্ত কখনোই মানুষের জীবনহানির ক্ষেত্র হতে পারে না। বরং তা হওয়া উচিত আইনের শাসন, মানবিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।”