Published : 18 Aug 2026, 01:31 PM
সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে এবার খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান জানান।
সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৯ জুন ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।
মুক্তি পাওয়ার আগেই গত ৭ অগাস্ট বসুন্ধরা এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাদিককে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী।
ওই আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে’ ওই ঘটনা ঘটানো হয়।
তদন্তে এ ঘটনায় সাদিকের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’ বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
ওই আবেদনের ওপর শুনানিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন আদালতে বলেন, “ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান?”
কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে সাদিক ওই মামলার ঘটনায় জড়িত হলেন, সে বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন আদালত। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
ওই ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে মেজর সাদিককে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
এর ভিত্তিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন রোববার বলেন, “আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।”
কিন্তু এর পরপরই খিলক্ষেত থানার নতুন মামলায় সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এসআই মো. শাহজালাল। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে।
এদিন শুনানির সময় সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলাকায় ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়’ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
“তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভাবমূর্তি, সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য ‘সহযোদ্ধা’ নামক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়।”
এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।