১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুদকের ‘কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা’, একজনের বিরুদ্ধে মামলা

এ ধরনের অভিযোগে এর আগে রমনা মডেল থানাতেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, বলেছে কমিশন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 05:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

সোমবার মামলা দায়েরের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

মামলার আসামির নাম মো. রেজওয়ানুল হক। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। দুদকের নথি অনুযায়ী, তার কোনো বৈধ পেশা বা জ্ঞাত আয়ের উৎস নেই।

তার বিরুদ্ধে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন কমিশনের পরিচালক মো. আবুল হাসনাত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি দেড় কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং প্রায় তিন কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুদকের চেয়ারম্যান, মহাপরিচালকসহ সংস্থাটির বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ফেইসবুক আইডি তৈরি করেন রেজওয়ানুল হক। পরে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন বলে দুদকের অভিযোগ।

দুদকের হিসাবে, এভাবে তিনি ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলেছে, তার নামে জমি, প্লট ও নির্মাণাধীন ভবনসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। স্বর্ণালংকার, আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ব্যাংক জমাসহ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের।

এজাহারে বলা হয়েছে, ইয়াসমিন আক্তার নামে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খোলেন এ আসামি। তিনি নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে হিসাবটি পরিচালনা করতেন। পাশাপাশি তার নিজের নামেও একটি ব্যাংক হিসাব ছিল।

দুদকের ভাষ্য, এই দুই হিসাবে ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬১ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৬ টাকা উত্তোলন করা হয়। 

দুদকের নথি অনুযায়ী, শুধু দুদক কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগেই রমনা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করে কারাগারেও পাঠানো হয়।

পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুদকের বাইরেও প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জ, মাগুরা সদর, শাহবাগ ও রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে নয়টি বা তার বেশি ফৌজদারি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।