১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়ত হবে না, তবে চেষ্টা চালাব: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তিনি।

বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়ত হবে না, তবে চেষ্টা চালাব: খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 12:08 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে শেষ করা সম্ভব না হলেও চেষ্টায় কমতি দিতে চান না জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার ওই পদে দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন তিনি।

“সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার মত সরল ব্যক্তি আমি নই। কিছু বিষয় আছে, যা সমাধান ছাড়া থেকে যাবে। কিছু বিষয় থাকবে, সেগুলোর সমাধান পেতে আমাদের সময় লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে, যেখানে আমরা পারি সেখানে সহাবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করব না। সেটা করার চেষ্টাই আমি অব্যাহতভাবে করে যাব।”

নিজের কাজের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা মনে করিয়ে দিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, “আমি মনে করি, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।”

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক এ সংস্থার সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও প্রথম ব্রিফিংয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সনদের প্রথম বাক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে বলা হয়েছে আমরা জাতিসংঘের জনগণ, এটা বলেনি ‘আমরা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র’। তার মানে, এটি সংস্থার রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কিছু।”

নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন অংশের মানুষকে জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আশাও দেখিয়েছেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জাতিসংঘে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, যেখানে তাদের প্রতিনিধিত্বই নেই?

উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসাবে তিনি পরিস্থিতি সরাসরি দেখেছেন। তাদের যন্ত্রণা ও বাড়ি ফেরার তাড়নাও প্রত্যক্ষ করেছেন।

ওই সময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে ধরে খলিলুর বলেন, “এক লাখ মানুষ ইফতার করতে জড়ো হয়েছিল এবং প্রত্যেকেই বলেছে, তারা বাড়ি ফিরে যেতে চায়।

“নিজের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া বড় এই জনগোষ্ঠীর এটাই আকাঙ্ক্ষা এবং তাদেরকে আমরা জাতিসংঘে নিয়ে এসেছি। আমরা কণ্ঠস্বরকে জোরালো করেছি। আমাদের কার্যক্রমে সেটা অব্যাহত রাখব।”