পুরান ঢাকায় মাথা থেঁতলে হত্যা: সাক্ষ্য দিলেন ৩ প্রত্যক্ষদর্শী
মামলায় আগামী ২৩ অগাস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে।
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গত বছর কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন প্রত্যক্ষদর্শী। এ সময় তারা ঘটনার সময়কার বর্ণনা আদালতে তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীরা হলেন- সোহাগ হত্যার ঘটনা সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল, সোহানা মেটালের (সোহাগের দোকান) কর্মচারী মো. হাসান ও মো. ইসমাইল।
এই মামলায় আগামী ২৩ অগাস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
সে সময় পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগীও ছিলেন একসময়। ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
আদালতে সাক্ষী ইসমাইল বলেন, “ঘটনার আগে ৭ জুলাই সন্ধ্যায় রজনী বোস লেনে সোহাগ ভাইয়ের গোডাউন তালাবদ্ধ করে মাহমুদুল হাসান মঈন, সারোয়ার হোসেন টিটুসহ আরও ১০-১৫ জন। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। সোহাগ ভাই তার দোকানে আসেন। সেখানে আপোস-মীমাংসার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোহাগ ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোহানা মেটালে বসেছিলাম। তখন মঈন, টিটুসহ আরও ১০/১৫ জন দোকানের সামনে আসে। টিটু জিজ্ঞাসা করে সোহাগ ভাইকে গোডাউনের তালা ভেঙ্গেছে কে? সোহাগ ভাই উত্তর দেয়, আমার গোডাউন, আমি তালা ভেঙ্গেছি। তখন টিটু আবার বলে, কাকে জিজ্ঞাসা করে তালা ভাঙ্গসছ তুই? তখন সোহাগ ভাই বলে, আমার গোডাউন, আমি আবার কাকে জিজ্ঞাসা করব। তখন সোহাগ ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
“সোহাগ ভাই দাঁড়ালে তার জামার কলার ধরে টেনে-হেঁচড়ে তাকে দোকান থেকে বের করে মাহমুদুল হাসান মঈন। তারপর আসামিরা সবাই মিলে তাকে মারধর শুরু করে। সেখান থেকে মারতে মারতে মিটফোর্ট হাসপাতালের দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর আসামিরা আমাকেও ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি, তাকে আসামিরা মেরে ফেলেছে।”
সোহাগের দোকান কর্মচারী বাবুল এবং মো. হাসানও আদালতে জবানবন্দিতে প্রায় একই ধরনের কথা বলেন। তারা ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেদিনকার ঘটনার বিষয়ে তারা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাক্ষীদের জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা শেষ করেন।
এর আগে গত ৩ অগাস্ট এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন মামলার বাদী সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম সাক্ষ্য দেন।
গত ১২ জুলাই ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত। আসামিরা হলেন—মাহমুদ হাসান মহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির, অপু দাস।
এদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে ও ৮ জন পলাতক রয়েছে। জামিনে আছে তিন আসামি।
