সরকার পতনের পর মালিকানার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
Published : 19 Aug 2024, 05:34 PM
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সম্প্রচার সাত দিনের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এ চ্যানেলের অংশীদার সিটি গ্রুপের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রিটকারী সিটি গ্রুপের পক্ষে পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করীম।
তিনি বলেন, “সময় টেলিভিশন আজকের রিটটা ফাইল করেছে। রুলের টার্মটা এই, যেন সময় টেলিভিশন নিরপেক্ষভাবে যেকোনো সংবাদ পরিবেশন করতে পারে, কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া। অতীতে যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছে- তারা এখানে এসে ভাঙচুরের চেষ্টা করছে। এ রকম একট ‘টেন্সড’ অবস্থার মধ্যে সাত দিনের জন্য অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হয়েছে যেন সময় টিভি এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকে।”
সময় টিভির অংশীদারদের মধ্যে একটি মামলা হাই কোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে চলমান আছে, যেটির শুনানির দিন রয়েছে আগামী ২২ অগাস্ট। ওই মামলায় সিটি গ্রুপের প্রতিপক্ষ আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আইনজীবী খোকন বলেন, “সময় টেলিভিশনের ৭৫ শতাংশের মালিক সিটি গ্রুপ এবং ২৫ শতাংশের মালিক অন্য গ্রুপ। এ দুটি গ্রুপের একটি থেকে এমডি হলে আরেকটি থেকে হবে চেয়ারম্যান।
“কয়েকদিন আগে সিটি গ্রুপ একটি বেআইনি সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে বলা হয় তারাই এমডি এবং তারাই চেয়ারম্যান। ওই সিদ্ধান্তে এমডি আহমেদ জোবায়েরকে অপসারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে একটি মামলা পেন্ডিং আছে। তারা (সিটি গ্রুপ) ওই মামলায় কনটেস্টও করেছে।”
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “তারা কোম্পানি কোর্টের মামলার তথ্য গোপন করে এই রিট আবেদন করেছেন। একই বিষয়ে দুটি মামলা হতে পারে না। তারা এই রিটের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন। সেখানে তারা এই তথ্য গোপনের কথা জানাবেন।
“এই বিষয়ে সবকিছু কোম্পানি কোর্টে সেটেল হবে।”
তবে তথ্য গোপনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি গ্রুপের আইনজীবী আহসানুল করীম।
তিনি বলেন, এ দুটি বিষয় ভিন্ন। এছাড়া ওই কোম্পানি কোর্টের তথ্য তিনি রিট আবেদনে সংযুক্ত করেছেন।
গত ১০ অগাস্ট সময় মিডিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। আগের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ও সিইও পদ থেকে আহমেদ জোবায়েরকে অপসারণ করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কোম্পানি কোর্টে মামলা করেন আহমেদ জোবায়ের।
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এই খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এতে সাময়িক সময়ের জন্য সময় টিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য আবারও সম্প্রচারে আসে সময় টেলিভিশন। এরপরই সামনে আসে মালিকানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত তা আদালতে গড়ায়।
২০০৯ সালে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা সময় টেলিভিশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শেষে ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল বাণিজ্যিক সম্প্রচারে আসে।
লাইসেন্স নেওয়ার সময় তৎকালীন মন্ত্রী কামরুল ইসলামের ভাগ্নে আহমেদ জোবায়েরের নামে ৯৩ শতাংশ শেয়ার ছিল। ব্যবসায়িক ও পারিবারিক সূত্রের তথ্য, এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শেয়ার কামরুল ইসলামের হলেও কাগজে কলমে তা ছিল আহমেদ জোবায়েরের নামে।
অন্য অংশীদারদের মধ্যে কামরুল ইসলামের ভাই মোরশেদুল ইসলামের ৩ শতাংশ এবং নিয়াজ মোরশেদ ও তুষার আবদুল্লাহর ২ শতাংশ করে শেয়ার ছিল।
এরপর দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিটি গ্রুপ সময় টেলিভিশনে ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। তাদের কাছে ৭৫ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ জোবায়েরের মাধ্যমে মন্ত্রী কামরুলের পরিবারের কাছে থেকে যায়। পরে তুষার আবদুল্লাহ সময় টিভি ছেড়ে যান।