১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হেলাল রিমান্ডে

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন থেকে মঙ্গলবার হেলালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ হেলাল রিমান্ডে
চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিক্রেতা মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Apr 2026, 05:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:25 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ‘বিক্রেতা’ মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বুধবার রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।

মাজেদুল হক চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং’ নামে একটি অস্ত্র বিক্রির দোকানের মালিক। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা বুধবার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি (পিস্তল) নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছিল। ওই অস্ত্র এবং মামলার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কার্তুজ ও বুলেট ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ হয়, এই পিস্তল থেকেই গুলি করা হয়েছে। তাছাড়া মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষায় পিস্তলের সিরিয়াল নম্বরও উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। 

তদন্তকালে জানা যায়, উদ্ধার করা পিস্তলটি ঢাকার ‘এম এইচ আর্মস কোং’ নামে এক কোম্পানির আমদানি করে৷ পরে ঢাকার চকবাজারের ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’-এর কাছে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর অস্ত্রটি বিক্রি করে তারা। ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিস্তলটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং এর কাছে বিক্রি করে। 

আসামি মাজেদুল হক হেলাল ওই ‘হামিদুল হক আর্মস এন্ড কোং’ দোকানের মালিক। দোকাটির লাইসেন্স আগে তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল। ২০০০ সালে মাজেদুল হক লাইসেন্স তার নামে করে নেন। 

তার লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল। পরে আর নবায়ন করেনি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’ থেকে মাজেদুল হক অস্ত্রটি কিনে নিয়ে যান। 

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, অস্ত্রটি মাজেদুল হক হেলালের কাছ থেকে হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হাতে কীভাবে গেল সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই চলছে। 

শুনানিতে হেলালের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তিনি কিছু বলতে চান কি না তা জানতে চান বিচারক। হেলাল তখন বলেন ‘না’। পরে আদালত তকে তিন দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে আততায়ীর গুলিতে মারাত্মক আহতন হন তিনি। 

মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুর। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। 

তবে ওই অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি তুলে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।