Published : 14 May 2026, 08:24 PM
মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
তার ভাষ্য, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের মাধ্যমে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং 'জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার'-এর সহযোগিতায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালায় কথা বলছিলেন মনজুর মোর্শেদ।
তিনি বলেন, ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসংঘ কনভেনশন এবং এর সম্পূরক প্রোটোকলগুলোর আলোকে বাংলাদেশ সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রণয়ন করেছে। নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
“বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।"
কর্মশালায় বলা হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাসমূহকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করা, সম্পত্তি জব্দ এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মত বিধান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এই আইনে।
এছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।