Published : 07 Jun 2026, 09:19 PM
শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়া সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, নারী সদস্যদের আগমনের ফলে জাতীয় সংসদ ‘পূর্ণতা’ পেয়েছে।
স্পিকার বলেন, “আজকে তো সংসদ অনেক ‘কালারফুল’ দেখা যাচ্ছে। সংসদ আজ নারী সদস্যদের আগমনের ফলে পূর্ণতা পেয়েছে। তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাই।”
রোববার বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়, এই অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রথম দিনের বৈঠকে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মোনাজাত হয়।
এরপর স্পিকার সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের স্বাগত জানান।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল এই সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তারা শপথ নেন ৩ মে।
পরদিন বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ বাকি আসনে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তিনি শপথ নেন ৬ মে।
এই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ, শেষ হয় ২৫ কার্যদিবস চলার পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয় এই অধিবেশন।
সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথমে দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উপস্থিতি ও সংসদে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানু সংসদে নারী সদস্যদের আরও বেশি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, “ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, এই সংসদে আজ বসন্ত আমাদের ৫০ জনের কাছে।”
রানু বলেন, “প্রত্যেক রাজনীতিবিদের জীবনের স্বপ্ন থাকে এই মহান সংসদে আসবার।”
এ পর্যায়ের স্পিকার তাকে প্রশ্ন করার জন্য আহ্বান জানান।
রেহেনা আক্তার রানু তখন বলেন, “মাননীয় স্পিকার আপনাকে কড়া হেডমাস্টার হিসেবে দেখতে চাই না। নারীবান্ধব স্পিকার হিসেবে এ সংসদে দেখতে চাই।”
পরে তিনি বলেন, “আমরা যে ৫০ জন এই সংসদে এসেছি, আপনি যদি আমাদের কথা বলার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ৫০টি অলংকার নয়, ৫০টি নারী জাতির অহংকার হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব।”
প্রশ্ন করার আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য রানু স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমি আপনার নির্বাচনি এলাকার জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলাম। আমি আপনার জনপ্রিয়তা দেখেছি। আপনি সাতবার এমপি হয়েছেন। আমিও আপনার মতো সাতবার এমপি হতে চাই। এই কারণে এই সংসদে কথা বলার সুযোগ চাই।”
বক্তব্য দীর্ঘ হলে স্পিকার তাকে কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে প্রশ্নে আসার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “সংসদ পরিচালনা হবে কার্যপ্রণালি বিধি মোতাবেক। এই প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি প্রশ্ন করার সুযোগ আছে।”
পরে নারী সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, “এখানে রেহানা আক্তার রানু যা বলেছেন, সেটা আমি ধরে নেব যে সকল সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যের বক্তব্য। সুতরাং এটার পুনরাবৃত্তি করার আপনারা চেষ্টা করবেন না।”
রেহানা আক্তার রানুর সাতবার সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে স্পিকার বলেন, “সাতবার এমপি, বক্তৃতা দিয়ে তো সাতবার এমপি হওয়া যায় না। আপনারা এলাকায় মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। আপনারা সাতবার কেন, ২৭ বারও হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।”