২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

গ্যাসের সংকট ‘কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে’ কমে আসবে: প্রধানমন্ত্রী

“যেখানে জ্বালানি রাখতে হয়, সেই স্টোরেজ মাত্র দুটি করে গিয়েছে ১৫ বছরের সেই ‘ফ্যাসিবাদ’ সরকার,” বলেন তারেক রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2026, 08:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

দেশে গ্যাসের সংকট ‘কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে’ আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য ‘দুঃখপ্রকাশও’ করেছেন সরকারপ্রধান। 

শনিবার ঢাকা-১৭ আসনে এক আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, “কিছু দিন ধরে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষে মহানগর, শহর, উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে মানুষ বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছে। আমি জানি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে। সিএনজি বলেন, এলপিজি বলেন, বিভিন্ন রকম গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে।

“আমাদের এই মূল্যবান গ্যাসের একটি বড় অংশ আমাদেরকে বিদেশ থেকে আনতে হয়। জাহাজের মাধ্যমে এনে যে স্টোরেজে রাখতে হয়, সেই স্টোরেজের ব্যবস্থা মাত্র দুটি করে গিয়েছে ১৫ বছরের সেই ‘ফ্যাসিবাদ’। তাও এমনভাবে করে গিয়েছে, যেন তাদের লোকজন সেই সুবিধা পায়।”

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করে সরকারপ্রধান বলেন, “আজ দুটি ভাসমান জাহাজের একটিতে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গ্যাসের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

“এরই মধ্যে কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে। আমি আশা করি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।“

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের জন্য যে কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এদিন মহাখালীর ওয়ারল্যাস টিএন্ডটি মাঠে দুঃস্থ ও অসুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। 

আলোচনার ঢাকা-১৭ আসনের ৬৮১ জনের হাতে চেক তুলে দেন তারেক রহমান।

‘ফ্যাসিবাদের মতো ওরাও আওয়াজ তুলছে’

আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমরা দেখেছি, যে ফ্যাসিবাদকে এ দেশের মানুষ এ দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদ বলেছিল, এক মিনিটের জন্য বিএনপি সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।”

১৯৯১ সালের মতো একই ধরনের ‘আওয়াজ’ বর্তমানে আবার শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। 

কোনো দলের নাম না বলে তারেক রহমান বলেন, “একই রকম আওয়াজ ইদানিং আবার আরো কিছু রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে, সেই রকম শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। 

“আমরা দুদিন আগে দেখলাম একটি রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্য প্রতিবাদ করে বলছে, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’। হারিকেন সামনে নিয়ে বসে আছে। দেখেছেন ছবিটা? সামনে হারিকেন। পেছনে কিন্তু ফ্যান চলছে তাদের। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।”

তিনি বলেন, ‘‘ ছবিটা ভালো করে দেখেন। পেছনে ফ্যান ঘুরছে, ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। আর এইদিকে কেরোসিন বিহীন হারিকেন নিয়ে বলছে যে বিদ্যুৎ দে, বিদ্যুৎ দে।“

তারেক রহমান বলেন, “তাদের বন্ধুবান্ধব সহকর্মীরাও তো অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিল। তখন তারা কী করেছিল? এই যে তৃতীয় যেই জাহাজটি হওয়ার কথা ছিল গ্যাসের জন্য, এই জাহাজের পারমিশন তো তারাই বাতিল করে দিয়েছিল। 

“এখন আবার আমাদেরকে নতুন করে সবকিছু ভালো করে দেখেশুনে করতে হচ্ছে। ইনশাল্লাহ আমরা আশা করি এই তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাসের সমস্যার সমাধান অনেকাংশে কমে যাবে।”

বিরোধীদের প্রতি ‘চ্যালেঞ্জ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে এসব রাজনৈতিক দলকে পরিষ্কারভাবে আমি বলতে চাই, আপনারা যদি মনে করেন, জনগণের প্রতি আপনাদের এতটাই দায়িত্ব আছে, তাহলে আপনাদের পরিকল্পনা নিয়ে আসুন জনগণের সামনে। 

“আপনাদের পরিকল্পনা যদি আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, তাহলে আমি আপনাদের পরিকল্পনাই গ্রহণ করব। তাদের প্রতি আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম।

“আর যদি তারা শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, দেশকে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব কথা বলে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ একজন রাজনীতিক হিসেবে শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করা তার দায়িত্ব বা কাজ নয়। বরং জনগণকে সঠিক পথ দেখানোই হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদের কাজ।”

তিনি বলেন, “বিভ্রান্তির রাজনীতি ‘স্বৈরাচার’ করে গেছে, মিথ্যার রাজনীতি ‘স্বৈরাচার’ করে গেছে। ভাংচুরের রাজনীতি ‘স্বৈরাচার’ করে গেছে। আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, জনগণের জন্য কাজ করবেন। আপনারা জনগণের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আপনার দেশ গঠনের জন্য কাজ করবেন। কাজেই সেই সব বিভ্রান্ত রাজনীতি বাদ দেন, সেইসব হঠকারিতার রাজনীতি বাদ দেন। 

“সড়কে বসে ভাংচুর করা, বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ, সেই রাজনীতি শেষ। এখন সেই রাজনীতি আর কেউ সমর্থন করে না।”

‘জনগনের জন্য কাজ করুন’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যে গুলশান লেক আছে, এই লেক যদি পরিষ্কারও করতে হয়, ছয় মাস সময় লাগবে। যত ময়লা এর মধ্যে আছে তা পরিস্কার করতে। কাজেই কোনো বক্তব্য রাখা খুবই সহজ কাজ; সমালোচনা করা খুবই সহজ কাজ।

“যদি মুরোদ থাকে, আসেন শার্টের হাত গুটিয়ে, স্যান্ডেল পরে। মাঠে নামুন । মানুষের জন্য কাজ করুন; দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন।”

সরকারপ্রধান বলেন, “যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে, বিশৃঙ্খল কথা বলছে, বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, ১৭ বছর মানুষ আপনাদের রাজপথে দেখতে পায় নাই।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে সেখানকার কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানি। আরও বক্তব্য দেন মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিসহ ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন থানা ও  ওয়ার্ডের নেতারা।