১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজ আটকানো হচ্ছে না: ইরান

“এসব দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতে, এমনকি যুদ্ধ শেষের পরেও এ সমন্বয় অব্যাহত থাকবে,” বলেন আরাকচি।

হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজ আটকানো হচ্ছে না: ইরান
ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 09:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে যাতায়াত করতে পারছে বলে দাবি করেছে ইরান।

দেশটি বলছে, ‘বন্ধুত্বসহ’ নানা কারণে তারা এসব দেশের নৌযানকে ভবিষ্যতেও বাধা দেবে না।

পারস্য উপসাগরের সরু প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, তার ২০ শতাংশ এ পথ হয়েই যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার শুরুর পর নৌপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। 

ইরান একাধিকার বলেছে, তাদের শত্রুপক্ষ ও শত্রুকে সহায়তা দেওয়া দেশের বাইরে অন্যরা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। 

সেই আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ থাকার যে দাবি পশ্চিমা গণমাধ্যম করে আসছে, তা সঠিক নয়।”

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনেক জাহাজের মালিক বা যেসব দেশের মালিকানায় এসব জাহাজ রয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা চায়। 

“যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি, অথবা অন্য কোনো কারণে হোক, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদেরকে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছে।“ 

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি

আরাকচি বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত—তাদের জাহাজ কয়েক রাত আগেই হরমুজ অতিক্রম করেছে। 

“এর বাইরে আরও কিছু দেশের জাহাজ গেছে। আমার বিশ্বাস, এ তালিকায় বাংলাদেশও আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতে, এমনকি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও এ সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।”

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে হাজার দেড়েক মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন। 

এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। 

জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। 

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।