Published : 21 Aug 2026, 06:09 PM
বিভিন্ন আসামিকে বার বার গ্রেপ্তারের পরও তারা জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ানো প্রসঙ্গে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের ভাষ্য, এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ কার্যালয়ে শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন তিনি। মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্পের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারী’ ৩৬ মামলার আসামি সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিমকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাব জানায়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর র্যাবের হাতে চুয়া সেলিম দুইবার গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু দুইবারই জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১১০ গ্রাম হিরোইনসহ জেনিভা ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
একইদিন মাহি গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে ও মোহাম্মদপুরের বিজলি মহল্লা থেকে সন্ত্রাসী মোহম্মদ রতন মিয়া ওরফে বোমা রতনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, “৩৬টা মামলা তার (সেলিম) বিরুদ্ধে। তিনটা ওয়ারেন্ট এখন লাইভ, একটা হচ্ছে হত্যা আর দুইটা মাদকদ্রব্য। এখন আরো দুইটা মামলা তার বিরুদ্ধে প্রক্রিয়াধীন আছে।”
বারবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর অপরাধীদের জামিনে বেরিয়ে আসা নিয়ে র্যাব কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে একটা আসামিকে গ্রেপ্তার করি এবং এই আসামি যখন আবার জামিন পেয়ে যায় তখন আমাদের যারা ফিল্ডে কাজ করে, তারা কিন্তু একটু দিশেহারা হয়। কিন্তু আমরা আবার শক্তি সঞ্চয় করি, আবার তাদের গ্রেপ্তার করি। এর বাইরে তো আমাদের কিছু করার নেই আসলে।”
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিতে গিয়ে সম্প্রতি একটি ডাকাত চক্রের হোতা ও ৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে টানেন তিনি। তৈয়ব আলীকে গত ১৪ অগাস্ট কামরাঙ্গীরচরে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিআইজি নয়মুল বলেন, “৪৫টা মামলার আসামি এবং সেখানে আমরা দেখলাম যে, সে নাকি তার জামিন দেওয়ার জন্য একটা গ্রুপ আছে। ওই গ্রুপটি তার ‘প্রিপেইড জামিন’ করিয়ে দিত। পরে সে আবার এই অপরাধ করে, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই করে টাকা সংগ্রহ করে তাদেরকে টাকা রিফিল করে। আমি কোনো কমিউনিটির কথা বলছি না, তারা প্রিপেইড জামিন পায় আর কি। সুতরাং এগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে নিশ্চয়ই।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে লোকটা বারবার একই ধরনের কাজ করে ধরা পড়ছে, এ ব্যাপারেও অবশ্যই একটা রিডিং আছে আদালতে, তাকে জামিন নাও দিতে পারে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তটা আদালতের, কাকে জামিন দেবে, কাকে দেবে না। কিন্তু মামলার এজাহারে কোনো ত্রুটি নাই। তদন্তেও কোনো ত্রুটি নাই। আসলে জামিনের ব্যাপারে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণই নাই।”
মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ সদরদপ্তর থাকার পরেও ওই এলাকায় ছিনতাই-চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক বলেন, “হেডকোয়ার্টার থাকলেই যে ছিনতাই-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, এমন তো কথা না। ক্যান্টনমেন্টের আশেপাশেও তো ছিনতাই হয়। আপনার হেডকোয়ার্টার থাকবে আর ছিনতাই-চাঁদাবাজি হবে না, এই ধারণাটা ঠিক না। আমরা তো বাইরে কাজ করি, হেডকোয়ার্টার দেখেই ছিনতাই-চাঁদাবাজি করবে না, যারা করবে তারা আপনার সামনেও করবে। তাদেরকে কিভাবে আমরা ট্রিট করতেছি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
“আপনারা নিশ্চয়ই এটা স্বীকার করবেন যে, র্যাব-২ আগে যে স্পিডে কাজ করত, এখন তার স্পিড অনেক। মানে ধরেন ১০ গুণ স্পিড বেড়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমরা কিন্তু মোহাম্মদপুরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল রাখতে পেরেছি। যদি আমাদের এই স্পিডটা ধরে রাখতে পারি, নিকট ভবিষ্যতে আরো বেশি স্থিতিশীল হয়ে যাবে।”
মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকের কারবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদকের যে এই কারবার, এটা কি গতকালকে থেকে শুরু হয়েছে? যেহেতু একটা জিনিস চলছে, এটাকে বন্ধ করতে সময় লাগবে। আমাদের আগ্রহ কিংবা সাহসের কোনো অভাব নেই। আমরা অবশ্যই এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার জন্য আমাদের ক্যাপাসিটির মধ্যে যতটুক করা সম্ভব, অবশ্যই করব।”