Published : 10 Sep 2026, 05:42 PM
তিন সংসদ সদস্যের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির কাছে ‘জরুরি ভিত্তিতে’ ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা চেয়ে বার্তা এসেছে।
ওই সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে নূরুল ইসলাম মনির ধারণা, তাদের ফোন হ্যাক হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ভয়েস ক্লোন ও স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার বিষয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন।
তবে কোন তিন সংসদ সদস্যের নম্বর থেকে কল এসেছিল তা বলেননি নূরুল ইসলাম মনি।
চিফ হুইপ বলেন, “আমি কালকে এখানে বসে পেয়েছি, আমাদের তিনজন মাননীয় সংসদ সদস্য বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনজনের তিনটা ফোন থেকে এসেছে।
“যাদের ফোন থেকে এসেছে, তাদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। ফোন করেছি, তো ফোন আর ধরে নাই। মানে ফোন কেউ রিসিভ করে নাই। মানে ফোন হ্যাক হয়েছে।”
সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া খুবই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই বিষয়টি আপনারা জানলে, সারা বাংলাদেশ জানবে বলে আমি মনে করি। আর টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুক।”
ফোন হ্যাকের পাশাপাশি ভয়েস ক্লোন ও স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা করা হচ্ছে দাবি করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে এই কাজটা করছে। কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটা কাগজ হাজির করছে, সেটাও প্রবলেম হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যের হয়েছে। সরকারি দলের অনেক সদস্যের হয়েছে।”
এ বিষয়ে সব সংসদ সদস্যকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেন তিনি।
চিফ হুইপের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “শুধু ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকার কথা বললেই হবে না। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে রাষ্ট্রের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আনা দরকার।
“বিষয়টা যেহেতু উঠালেন, এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে কিছু বলবেন না? ক্লোন হয় বা যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগতভাবে যাদেরটা হচ্ছে, তারা তো সেটার জন্য দায়ী না। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রকে। সে বিষয়ে কিছু বলার থাকলে বলেন।”
জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “এই বিষয়ে অলরেডি গতকালকেই কথা বলেছি এবং যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেটা অলরেডি বিটিআরসি করার চেষ্টা করছে। গতকালকেই কথা বলেছি, যাতে এই সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারি।”
এর আগে একই পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্যদের সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টি তোলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “সংসদের সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস থাকলেও তা নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না। সংসদ সচিবালয় থেকে তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
“আমাদের একটা ফেস রিডিং ডিভাইস আছে আমাদের সব লবিতে। তো আমাদের ফেস রিডিং ডিভাইসে ফেস রিডিং করা হয় না। সেটা একটা প্রবলেম হয়েছে। তো সে কারণে আমাকে এখানে অফিস থেকে অবহিত করা হয়েছে, আমাদের সকল সংসদ সদস্যবৃন্দ যাতে পরবর্তী সময়ে ফেস রিডিং করে হাউজে ঢোকেন।”
বৃহস্পতিবার সংসদ থেকে বের হওয়ার সময়ও সদস্যদের ফেস রিডিং করার অনুরোধ করেন তিনি।