১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কার্যালয় থেকে সংবাদকর্মীদের ‘ধরে নিয়ে যাওয়া সহিংসতার দৃষ্টান্ত’: টিআইবি

“সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এটা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন,” বলেন ইফতেখারুজ্জামান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Feb 2026, 07:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে সংবাদকর্মীদের ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ এনে এটাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য ‘অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার দৃষ্টান্ত’। 

সোমবার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে ইফতেখরুজ্জামান বলেন, "আমি জোর প্রতিবাদ এবং উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। 

“যে যুক্তিতেই হোক না কেন, এটি বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার দৃষ্টান্ত।"

কোন প্রতিষ্ঠানের সংবাদকার্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক কোনো তথ্য দেননি। 

তবে শনিবার রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ টাইমস নামের একটি সংবাদমাধ্যমের ফেইসবুক পেইজে পোস্ট দিয়ে বলা হয়, তাদের অফিস ঘেরাও করে সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে গেছে ‘সেনা সদস্যরা’।

এর কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ টাইমসের মোবাইল জার্নালিজম বিভাগের সম্পাদক সাব্বির আহমেদ ফেইসবুক লাইভে এসে বলেন, রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় তাদের কার্যালয় থেকে ২১ জন সংবাদকর্মীকে ‘ধরে নিয়ে যাওয়া’ হয়েছে। 

পরে বাংলাদেশ টাইমসের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, তাদের সব কর্মীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিবর্তন থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। কী কারণে তাদের ধরে নেওয়া হয়েছিল, কেনইবা ছেড়ে দেওয়া হল, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা আসেনি সেনা সদরের তরফ থেকে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, "কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জন্য যথাযথ পদ্ধতি আছে। পরে ওই সাংবাদিকদের ফেরত পাঠানো হলেও এর মাধ্যমে পুরো গণমাধ্যমের ওপর ভীতিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে, সেটাই আমরা চাই।"

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়কের মৃত্যুর খবর আসার পর গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। 

ওই ঘটনা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অথচ মাত্র দুদিন আগেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে জাতির দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।"

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘গণমাধ্যম জাতির দর্পণ।’ অত্যন্ত শ্রুতিমধুর কথা। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘গণমাধ্যম যেন ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারে।’ কিন্তু এই যে ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচারের দৃষ্টান্ত কী এটা?

"সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখানো হয়, যা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী নিতে চায় না। আমি প্রশ্ন করতে চাই, তাহলে সেনাবাহিনীর এই সত্যটার সঙ্গে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিষয়টি কোথায়?”

তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এটা করতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন। যদি তাই হয়, তবে সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বিষয়টা কেন লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা হিসাব করতে হবে।"