Published : 22 Jun 2026, 06:04 PM
শাহবাগে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক আসিফ আহমেদ সৈকত জামিন পেলেও তাকে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত সোমবার তাকে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে।
সৈকতের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, “৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত জামিন পান সৈকত। জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আজ (সোমবার) তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।”
গত ১৮ জুন সৈকতকে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এ থানার এসআই রায়হান উদ্দিন। আদালত শুনানির দিন রেখেছিল সোমবার। এ দিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানি নিয়ে বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গত ৭ মার্চ বিকালে চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুজন আটক হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ। অন্যজন মাইক অপারেটর।
এই দুজনকে আটকের প্রতিবাদে সেদিনই রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি দিয়েছিলেন ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন। ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।
সেদিন রাত সাড়ে ৯টায় কর্মসূচি শুরু হয়, এরপর রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এসময় আয়োজকরা বাধা দিলে হাতাহাতি হয়।

হাতাহাতির পর ইমিসহ অন্যরা জাদুঘরের সামনেই থেকে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যান ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। এসময় ইমির সঙ্গে থাকা মামুনকে ছাত্রলীগ তকমা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। মারধর করা হয় ইমিকেও।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মামুন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ধরে ইমি ও মামুনকে টেনে-হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পরদিন ইমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে শাহবাগ থানা পুলিশ। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন ইমি।