Published : 26 Jul 2026, 03:52 PM
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো নামাজের জায়গাসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে নামছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এই অভিযানের জন্য এ সম্পর্কিত বিভিন্ন দপ্তরে নোটিশ দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো হয়েছে নামাজের জায়গা। পাশেই ওজুর জন্য রাখা হয়েছে পানির ড্রাম। এক জায়গায় সাদা কাগজে ‘নামাজের জায়গা’ লিখে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ তৈরির জন্য নেওয়া হয় ‘গণস্বাক্ষর’। শুক্রবার দুপুরে সেখানে জায়নামাজ পেতে নামাজও পড়েন একদল লোক।

এ পরিস্থিতিতে নামাজের জায়গাসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণপূতৃ মন্ত্রণালয়। নোটিশটি দেওয়া হয় গেল বৃহস্পতিবার। তবে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রোববার দুপুরের পর পর এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলমান রযেছে। প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
উদ্যানে সর্বসাধারণের অবাধ চলাচলের সুযোগে কিছু বিপথগামী (যেমন নেশাখোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, যৌনকর্মী ও ভাসমান ভবঘুরে) লোক নিরাপত্তা প্রহরীদের অগোচরে দিনে ও রাতে উদ্যানে অবস্থান করছে। এর ফলে উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া উদ্যানে আগত দর্শনার্থীরা প্রায়শই ছিনতাই ও হেনস্থার শিকার হচ্ছে।
বেশ কয়েকদিন ধরে জায়নামাজ পেতে নামাজও পড়েন একদল লোক। উদ্যানে এমন কর্মকাণ্ড দেখতে ভিড় করছেন অনেকে। রাজিব শাহ নামে একজন সেটি তৈরি করেছেন বলে উদ্যানে কাজ করে এমন কয়েকজন জানান।

নামাজের স্থানসহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দেওয়া নোটিশে বলা হয়, "সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু বহিরাগত অসাধু ভবঘুরে ও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মন্দিরের গেট বরাবর কিছু অবৈধ দোকানপাট স্থাপন করেছে এবং উদ্যানের এম্পিথিয়েটার সংলগ্ন কিছু স্থান জুড়ে অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের নামে উদ্যানের জায়গা দখল করে দিনরাত অবস্থান করছেন। প্রকল্পের আওতাধীন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ উদ্যানে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই বহিরাগতরা অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করে নিয়মিত অবস্থান করছে মর্মে সর্বসাধারণের নিকট প্রতীয়মান হচ্ছে।"
“তাদের বার বার ওই স্থান ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা হুমকি ধামকি দেখানোসহ গণপূর্ত উপ-বিভাগের কর্মচারী ও আনসার বাহিনীর সাথে রূঢ় আচরণ করছেন। এ বিষয়ে রমনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।”

ইতোমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহবায়ক, ডিএমপি প্রতিনিধি, সদস্য সচিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্যদের নিয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা জন্য এবং উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী এবং অবৈধ দোকানদার ও দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য অতিদ্রুত অভিযান পরিচালনাসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশে।
বিষয়টি ‘অতি জরুরি’ উল্লেখ্য করে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশের কপি দেওয়া হয়েছে।