মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম
শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ রাখা হয় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে শায়িত হলেন শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম।
দাফনের আগে শুক্রবার বিকালে মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা হয়।
এদিন বাংলা একাডেমিতেও তার জানাজা হয়। জানাজার আগে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আমীরুল ইসলামের মরদেহ রাখা হয় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে।
সেখানে আমীরুল ইসলামকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গনের ব্যক্তিরা।
এক শোকবার্তায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আমীরুল ইসলাম দেশের ছড়াসাহিত্যে সুপরিচিত নাম। তার ছড়া শিশুকিশোর মনে আনন্দপ্রবাহ বিস্তারের পাশাপাশি দেশপ্রেম, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।”
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সংস্কৃতিকর্মী মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, "দেশে বসন্ত উৎসব, বর্ষা উৎসব কিংবা নবান্ন উৎসবের মতো আয়োজনগুলোকে প্রচার ও সংস্কৃতির মূল ধারায় আনার পেছনে তার উদ্ভাবনী ধারণার বড় ভূমিকা ছিল।"
কবি আসলাম সানি বলেন, "আমীরুল আমাদের আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যের শুধু একজন লেখক নন, একজন দার্শনিক ছিলেন। একাত্তরের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে তিনি ধারণ করেছিলেন। শারীরিকভাবে চলে গেলেও তিনি তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে চির জাগরুক থাকবেন।"
এদিন জুমার নামাজের পর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা হয় আমীরুল ইসলামের।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভোগা এ সাহিত্যিক বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।
‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য অল্প বয়সেই প্রথমবার অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন; পরবর্তীতে এই পুরস্কার আরও পাঁচবার পান তিনি।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার এবং কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক।
আমীরুল ইসলাম বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের মাসিক ‘আসন্ন’ এবং অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’র প্রথম চার রঙের কিশোর পাতা সম্পাদনায় তিনি দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন।
সবশেষে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে কাজ করেন এ শিশুসাহিত্যিক।
