Published : 16 Aug 2026, 07:31 PM
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ঢাকার ‘একাধিক এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ত’ একটি চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলেছে, তাদের মধ্যে সেনা ও নৌ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, উত্তরখান, বিমানবন্দর, ধানমন্ডি ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় শুক্র ও শনিবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভুঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)।
এদের মধ্যে পাভেল নৌ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার ও রাব্বি সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সৈনিক।
এ বিষয়ে জানাতে রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঢাকা শহরে বেশ কিছুদিন ধরে ডিবি-র্যাব পরিচয় দিয়ে গাড়িতে চড়ে ছিনতাই-ডাকাতি করে আসছিল। তারা পুলিশের নকল ভেস্ট পরে আসল-নকল পিস্তলের মুখে এসব করে আসছিল।
এমন ‘তৎপরতার ধারাবাহিকতায়’ শুক্রবার রাতে কামরাঙ্গীরচরে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ তৈয়ব আলী সর্দার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, সন্ত্রাসীরা বা ছিনতাইকারীরা ইদানিং পকেট রাউটার ব্যবহার করতেছে, যাতে আমরা তাদেরকে ট্র্যাক করতে না পারি।“
তৈয়বকে এই ‘চক্রের প্রধান’ দাবি করে তিনি বলেন, “তার নামে সারাদেশে ৪৫টি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মামলা আছে। তার বাড়ি হচ্ছে মাদারীপুর, তাকে অনেকদিন ধরে খুঁজতেছিলাম।”
কখনো নিজে উপস্থিত থেকে আবার কখনো মাদারীপুরে থেকেই ‘কলকাঠি নেড়ে’ এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল বলে তুলে ধরেন তিনি।
পরে তৈয়বের দেওয়া তথ্যে উত্তরখান থেকে পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মোবাইল ফোন, র্যাব লোগোযুক্ত একটি আইডি কার্ড হোল্ডার, দুইটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করার তথ্য দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।
তাদের দেওয়া তথ্যে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর, রাব্বি, ইমরান, নুরুল ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, তাদের কাছে পাওয়া যায় একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, তিনটি র্যাব লেখা ভেস্ট, একটি ডিবি লেখা ভেস্ট, দুইটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, পাঁচটি কালো রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, পাঁচটি হলুদ রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি কালো রঙের পিস্তল কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিনটি স্মার্টফোন।
পুলিশ কর্মকর্তা তৈয়ব আলী সর্দার বলেন, “তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার কাজ করে। ইমরানের দেওয়া তথ্যে শনিবার রূপগঞ্জে তার বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তৈয়বের দেওয়া তথ্যে ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।”
পিস্তলটি তৈয়ব ৫-৬ দিন আগে ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিল বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ জন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেছিল। এছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেতের কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ১২ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায়ও তৈয়বের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দলটি সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।”
চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথাও বলেন তিনি।