১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলন দমন আর হত্যা এক বিষয় নয়: সাদ্দাম-ইনানের আইনজীবী

আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, আন্দোলনের সময় হত্যা বা আহত করার নির্দেশ, উসকানি কিংবা প্ররোচনার সঙ্গে সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের কোনো সম্পৃক্ততা প্রসিকিউশন ‘প্রমাণ করতে পারেনি’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 07:45 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাত্র-জনতাকে হত্যা বা আহত করার কোনো নির্দেশ ‘দেননি’ বলে দাবি করেছেন তাদের আইনজীবী ইশরাত জাহান।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক শুনানিতে তিনি এ দাবি করেন।

যুক্তিতর্কে ইশরাত বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলেই মাঠপর্যায়ের সব নেতাকর্মীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমনকি ছাত্রলীগের সদস্য ফরম পূরণ করেও অনেকে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তার দাবি, আন্দোলনের সময় হত্যা বা আহত করার নির্দেশ, উসকানি কিংবা প্ররোচনার সঙ্গে সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের কোনো সম্পৃক্ততা প্রসিকিউশন ‘প্রমাণ করতে পারেনি’।

এই আইনজীবী যুক্তি দেন, “আন্দোলন দমন করা আর আন্দোলনকারীদের হত্যা করা এক বিষয় নয়।”

‘যারা নিজেদের রাজাকার দাবি করে, তাদের আমরা শেষ দেখে নেব’—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে ইশরাত বলেন, “শেষ করে দেওয়া বলতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বোঝানো হয়েছে, হত্যা করা নয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদ্দাম ও ইনানের নেতৃত্বে মিছিলের বিষয়টি প্রসিকিউশন ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখাতে চাইলেও প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে মিছিল করা যায় বলে যুক্তি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের শুনানি শেষে ইশরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, "তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ নেই। নির্দেশনা, উসকানি বা প্ররোচনার পক্ষে অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হলেও সেগুলো দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।"

তার যুক্তিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। আগামী রোববার তিনি বাকি বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ২৯ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার ৫ জুন থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ঘটনাবলির বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতবছর হত্যার শিকার শরীফ ওসমান হাদির বক্তব্যও সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া নিহতদের স্বজন ও বিশেষজ্ঞদের জবানবন্দি, ভিডিও, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের সমাপনী যুক্তিতে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা এবং তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চাওয়া হয়েছে।

গত ৪ অগাস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পাঁচ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ১২ অগাস্ট প্রসিকিউশনের সমাপনী বক্তব্য শেষ হয়। এরপর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন–আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।