বিচারপতির আদেশ জালিয়াতি: দুপচাঁচিয়ার মেয়রের জামিন স্থগিত

গ্রেপ্তারের ১৪ দিনের মাথায় তিনি জামিন পেয়ে গেছেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে আসে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 March 2024, 11:48 AM
Updated : 25 March 2024, 11:48 AM

বিচারপতির আদেশ জালিয়াতির মামলায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়রকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপচাঁচিয়ার মেয়র বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পেয়েছিলেন।

চেম্বার আদালত আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত সেই জামিন স্থগিত করেছে।

চেম্বার আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়ার ১৪ দিনের মাথায় তিনি জামিন পেয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে সিরিয়াস এলিগেশন। তাই তিনি এত তাড়াতাড়ি জামিন পেতে পারেন না। আগামী ২৭ মার্চ আবার শুনানি হবে। সেদিন ফের আদেশ দেওয়া হবে।”

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৭ সালে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র থাকার সময় তার বিরুদ্ধে দুদক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে। ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করার পর দুদক মেয়র জাহাঙ্গীর ও পৌর সচিব কার্তিক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলাটি চলাকালে জাহাঙ্গীর ও কার্তিকের পক্ষে আদালতে একটি স্থগিতাদেশ জমা দেওয়া হয়। সেখানে হাই কোর্ট দুদকের ওই মামলা স্থগিত করেছে বলে দেখানো হয়। এ দুই আসামির পক্ষে আব্দুল মজিদ নামে এক ব্যক্তি আইনজীবী হিসেবে হলফনামা আকারে আদালতে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ জমা দেন।

পরে সেই স্থগিতাদেশের বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, হাই কোর্টের অন্য একটি মামলার নম্বর ব্যবহার করে জালিয়তির মাধ্যমে ভুয়া স্থগিতাদেশ বগুড়ার আদালতে দাখিল করা হয়েছিল।

বিষয়টি নজরে আসার পর হাই কোর্টের নির্দেশে ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর রিট শাখার সুপারেনটেনডেন্ট আব্দুল মমিন বাদী হয়ে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন।

মামলায় জাহাঙ্গীর ও কার্তিক ছাড়াও শিক্ষানবিশ আইনজীবী বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ধাপ সুখানগাড়ি বম্বপাড়ার সোলাইমান আলীর ছেলে আবদুল মজিদকে আসামি করা হয়।

পরে বগুড়া জেলা জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী মামলাটি গ্রহণ করে দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দুদক বগুড়ার সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান মেয়র জাহাঙ্গীরসহ তিনজনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৭ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম আত্মসমর্পণ করলে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর গত ২১ মার্চ জাহাঙ্গীর আলমকে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে জামিন নেন।

হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।