Published : 14 Apr 2026, 12:08 PM
বাংলা নববর্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অপেক্ষায় রয়েছেন টাঙ্গাইলবাসী।
মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার সদরসহ আশপাশের কৃষক-কৃষানিরা সমবেত হয়েছেন জেলার শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে। সেখানেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান।
এদিন সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সরাসরি স্টেডিয়ামে আসবেন বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সদরের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “পহেলা বৈশাখের এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল আসছেন। আমরা সবাই তার প্রতীক্ষায় আছি। এই দিন টাঙ্গাবাসীর জন্য একটি ঐহিহাসিক দিন।
“জননেতা তারেক রহমানের সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে কৃষক কার্ড চালু করবে। তারই অংশ হিসেবে আজকে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কর্মসূচি সরকার শুরু করতে যাচ্ছে।”
কৃষক-কৃষানিরা নানা রঙের পোশাক পরে স্টেডিয়ামে এসেছেন। নববর্ষ উদযাপনে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পাচ্ছেন- এ ভেবেই তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই দিনটা আমাদের জন্য খুশির দিন, বৈশাখ মাস কৃষকের কাছে খুব খুশির দিন। এদিনে কৃষক কার্ড সরকার দেবে… বিশ্বাস হতে চায় না। শুনেছি, মোবাইলে টাকা পাওয়ার আওয়াজ শুনব।”
কৃষানি তাহমিরা বলেন, “আমাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। জমিতে ফসল ফলাইতে কষ্ট হয়, বীজ পাওয়া যায়, সেচের পানি পাই না।
“তারেক রহমান কৃষক কার্ড দিব, এটা পাইলে আমাদের উপকার হইব। বৈশাখের প্রথম দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে আমার খুশি লাগছে।”
মাথায় ‘মাথাল’ ও গলায় গামছা জড়িয়ে কৃষক-কৃষাণিরা অনেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। কৃষকদের অতিথি সারিতে আসন দেওয়া হয়েছে, তারা সেখানে সেছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ দেশে ১০টি উপজেলায় এদিন কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
অন্য ১০টি উপজেলা হচ্ছে—পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপি এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা।
এছাড়া কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে ১৭ এপ্রিল।
প্রাক-পাইলটিং শেষ হওয়ার পর দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, “পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
যেসব সুবিধা পাবেন কৃষকরা
কৃষক কার্ড আদতে ব্যাংকের ডেবিট কার্ড; সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে তার বিপরীতে এ কার্ড তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানচাষি, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে এ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে মোট দেড় হাজার কৃষক-কৃষাণিকে এ কার্ড দেওয়া হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫ জনের হাতে এ কার্ড তুলে দেবেন বলে আয়োজকরা জানান।
এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন—
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিলারের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ,মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।