০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা

মনোনয়নপত্র জমার দুই দিন আগে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের এ সভা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা
ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 11:17 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচ তলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে  এ সভা শুরু হয়।

এই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার দুই দিন আগে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের এ সভা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন জানান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্ততি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এ সভা হচ্ছে। 

ভোটকে সামনে রেখে নানা ধরনের কাজ রয়েছে। সংসদ কক্ষে ভোট হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা থাকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মনির হোসেন বলেন, “এতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব থাকছেন। ইসি সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও অংশ নিয়েছে।”

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ অগাস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ অগাস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোট হবে ২০ অগাস্ট।

সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী হতে যাচ্ছে; ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিরোধী দল জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

নিয়ম হল, একাধিক প্রার্থী হলে ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন নির্বাচনি কর্তা। নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত দলীয় প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের কাজ সিইসির কার্যালয়ে হয়। একক প্রার্থী থাকলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোট হয়; এ সময় সহায়ক কর্মকর্তারা ‘নির্বাচনি কর্তা’ কে ভোটের কাজে সহায়তা করেন। সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।

ত্রয়োদশ সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

আরও পড়ুন-

২০ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মনোনয়নপত্র জমা ১৩ অগাস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে? সংসদ অধিবেশন ডাকতে হয়?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোটার তালিকা পেল ইসি