Published : 09 Jun 2026, 04:48 PM
প্রায় ১৩ বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকে অনুমোদন দেওয়া খুলনা শিপ ইয়ার্ড প্রকল্পটি এতদিনেও কেন বাস্তবায়ন হল না, তা উদঘাটন করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আসে বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে একনেকে অনুমোদন পায়। তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়ে কাজ হয়েছে ৭০ শতাংশ। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করে লাপাত্তা। সড়ক সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় গেল বছরের ৭ অগাস্ট চুক্তিও বাতিল হয়েছে।
এ অবস্থায় একনেক বৈঠকে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কেন এত দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেরির কারণ জানতে তদন্তের নিদের্শনা দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, “প্রকল্পটি মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কাংখিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি কেন, তা তদন্ত করে কারা কারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।”
খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায় আতাউর রহমান লিমিটেড ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
প্রথম দফায় এক বছর ও দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থ দফায় প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস ও সপ্তম দফায় ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে।
তবে সপ্তম মেয়াদে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয় ৭০ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে অষ্টম ধাপে গেল বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে এক যুগে। মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়।
প্রকল্পের ব্যয় প্রথমবার বাড়ানো হয়েছিল ২৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয়বারে বাড়ানো হয় ১৩২ কোটি। এতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একনেক বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।