Published : 11 Apr 2026, 06:33 PM
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিদের্শনা পাওয়া পর এ পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
শনিবার দুপুরে জিয়া সরণি খালের বর্তমান অবস্থা ও পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও দক্ষিণ সিটির প্রশাসক সালাম।
প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জিয়া সরণি খাল বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত করার এ কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটিকে চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি।

“বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।”
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, “ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থে বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রাথমিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।”
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএসসিসি কাজ করে যাচ্ছে। বিগত সরকার কেবল ‘জিয়া’ নামের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি অবহেলা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
খাল পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ড্রামে ফেলুন। আমরা প্রতিটি ব্লকে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করব, যারা ডিএসসিসি প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে খালের রক্ষণাবেক্ষণ মনিটর করবেন।”
৩০০ ও ৯০০ কোটি টাকার দুই প্রকল্প
জিয়া সরণি খাল প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিয়া সরণি খাল পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই খালকে বুড়িগঙ্গার সাথে সংযুক্ত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে স্থায়ী ‘গাইডওয়াল’ নির্মাণ, সৌন্দর্য্যবর্ধন এবং দুই পাশে হাঁটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
শ্যামপুর খাল প্রকল্প: প্রশাসক আব্দুস সালামের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৯০০ কোটি টাকার শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এখানে ভাসমান আবর্জনা আটকানোর আধুনিক ব্যবস্থা ও হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে।
পরে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসক কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় বিকালে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
মন্ত্রী বলেন, “জনগণ সচেতন না হলে কেবল সিটি করপোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়া সম্ভব হবে না।”
এ সময় তিনি সুনাগরিক হিসেবে সপ্তাহে এক ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার কথা বলেন।
এছাড়া পৃথক কর্মসূচিতে, ইস্কাটন এলাকায় সকালে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এ সময় ‘সচিব নিবাস ওয়ালফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।