১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা মেডিকেলে গৃহকর্মীর লাশ ফেলে যাওয়া তিনজন রিমান্ড শেষে কারাগারে

গত ১২ অগাস্ট ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান।

ঢাকা মেডিকেলে গৃহকর্মীর লাশ ফেলে যাওয়া তিনজন রিমান্ড শেষে কারাগারে
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 03:08 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কিশোরী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান।

তিন আসামি হলেন মীম যে বাসায় কাজ করতেন, সেই বাসার গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। ফয়সাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সালের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, কাজ শুরুর পর থেকেই মীমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হত। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে তার পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

এর মধ্যে গত ১২ অগাস্ট ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল ১৩ অগাস্ট সকালে মীমের পরিবারকে ফোন করে বলেন, মেয়েটি বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

১৭ অগাস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা ফয়সালদের বাসায় গিয়ে খোঁজ করলে তাদের ‘গালিগালাজ করে’ তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ২০ অগাস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ থানায় যান। পুলিশের সহায়তায় তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন।

মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ২১ অগাস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় ফয়সাল, রেশমা ও আব্দুর রাজ্জাককে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার ২৪ অগাস্ট তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষ ও তাদের আইনজীবী সেদিন দাবি করেন, মীম আত্মহত্যা করেছিলেন। 

রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। 

আসামিদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না বলে জানান এসআই শাহ আলম।