১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-২: সরোয়ারের মনোনয়ন বৈধতার রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ নুরুল আমীনের

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ৯ জুলাই শপথ নিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 11:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নের বৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

হাই কোর্টের গত ৯ জুলাইয়ের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ‘লিভ টু আপিল’ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এতে সরোয়ার আলমগীর, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ মোট ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনও সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি ছিলেন এবং এ কারণে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য ছিলেন।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে একটি অর্থঋণ জারি মামলা চলমান ছিল। ওই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য চলতি বছরের ৯ অগাস্ট দিন ধার্য ছিল।

‘লিভ টু আপিলে’ দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর গেজেট অনুযায়ী আপিল করার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। ফলে ৯ জানুয়ারি করা নুরুল আমিনের আপিলকে সময়োত্তীর্ণ বলার হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ সঠিক নয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।

ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

এরপর নুরুল আমিন আপিল বিভাগে গেলে ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে নির্দেশ দেয়, সরোয়ার আলমগীর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল আমীন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনার কারণে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ আটকে থাকে।

পরে ফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সরোয়ার আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত ১৬ জুন আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই হাই কোর্ট সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। ওই দিনই ইসি গেজেট প্রকাশ করে এবং সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

তবে হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের আগে গেজেট প্রকাশ ও শপথ আয়োজনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সেদিনই ইসিকে উকিল নোটিস পাঠান নুরুল আমীনের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এরপর ১২ জুলাই হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং সরোয়ারের সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন করেন নুরুল আমিন।

গত ২৯ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ওই আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়।

হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় ওই অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের প্রয়োজন নেই এবং পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর নুরুল আমীন নিয়মিত আপিল করতে পারবেন—এই প্রেক্ষাপটেই আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মঙ্গলবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করলেন নুরুল আমিন।