১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বাংলাদেশে আদিবাসী নেই’: মন্ত্রীদের বক্তব্যে ৪৪ নাগরিকের প্রতিবাদ

স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন ও স্থানীয় আইনি কাঠামোর পরিপন্থি বলেও মত তাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 09:59 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই বলে স্বরাষ্ট্র এবং তথ্য মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের ৪৪ নাগরিক। 

তারা বলছেন, এই বক্তব্য দেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন ও স্থানীয় আইনি কাঠামোর পরিপন্থি। একইসঙ্গে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথেও সাংঘর্ষিক।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্প্রতি ঢাকায় এক গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে আদিবাসী নেই এবং আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মন্ত্রীদের এই বক্তব্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয় ও স্বীকৃত অধিকারকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। সংবিধানের ২৩ এর ‘ক’ অনুচ্ছেদে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এ বক্তব্য তার স্পষ্ট বিরোধী।

“বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, অর্থ আইন ১৯৯৫, আয়কর আইন ২০২৩ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০-সহ নানা আইনি দলিলে ‘আদিবাসী’ শব্দটির অস্তিত্ব ও বিশেষ সংরক্ষণের সুযোগ স্বীকৃত।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, আইন ও সালিস কেন্দ্রের সভাপতি জেড আই খান পান্না, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মং উষা থোরাই, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, লেখক ও গবেষক রেহেনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফস্টিনা পেরেইরা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশরেকা অদিতি হক, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, গবেষক ও অধিকার কর্মী রোজিনা বেগম, কবি ও গবেষক বিলু কবীর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী পারভেজ হাসেম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতি কর্মী মিঠুন রাকসাম, হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, জাহেদ হাসান, আমিনুর রসুল, সাংবাদিক ও অধিকার কর্মী জুয়েল মারাক, প্রকাশক ও আদিবাসী সংস্কৃতি কর্মী ইন্টু মনি তালুকদার, অধিকার কর্মী হানা শামস আহমেদ, নৃবিজ্ঞানী নাসরিন খন্দকার এবং মানবাধিকার কর্মী হিরণ মিত্র চাকমা।

'দেশে আদিবাসী গোষ্ঠী নেই': দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ আদিবাস

দেশে 'আদিবাসী গোষ্ঠী নেই', সবাই 'অধিবাসী': স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী