Published : 14 Sep 2025, 09:01 PM
বৈষম্যবিরোধী আন্দালন চলাকালে ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিতে এক আন্দোলনকারীর নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন প্রত্যক্ষদর্শী।
রোববার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং দুজন পুলিশ সদস্য সাক্ষ্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর নাম মো. সৌরভ আহমেদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র। সৌরভ এ মামলার ১৪ নম্বর সাক্ষী।
গত বছরের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখাঁরপুলে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে এ মামলা চলছে।
সাক্ষ্যে সৌরভ আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই বছরের ৫ অগাস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রায়সাহেব বাজারের মেস থেকে সকাল ৯টায় বের হয়ে তিনি চানখাঁরপুল এলাকায় যান। অনেকের সঙ্গে তিনি শহীদ মিনারের দিকে যাওয়ার সময় বার্ন ইন্সটিটিউটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়তে থাকে।
“আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেই। পুলিশের তীব্র গুলির মুখে আমিসহ আরও অনেকে ১ নম্বর নবাব কাটারা রোডে আশ্রয় নিই। পুলিশের গুলিতে অনেক আন্দোলনকারী আহত হন। আনুমানিক ১২টা-১টার সময় আমার পাশে একজন আন্দোলনকারী বুকের বামপাশে গুলিবিদ্ধ হয়। আমি এবং আরেকজন আন্দোলনকারী তাকে রিকশায় করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
সৌরভ বলেন, “তার পরিচয় জানা না থাকার কারণে তাকে বেনামি টিকেট কেটে হাসপাতালে ভর্তি করি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এ সাক্ষী বলেন, নিহতের পকেটে একটি ফোন ছিল, কিন্তু সিম কার্ড ছিল না। সেই ফোনে কয়েকজনের নাম্বার ছিল। এর মধ্যে একটি নাম্বার ছিল ‘মা’ নামে।
“আমি সেই নম্বরে কল দেই। একজন মহিলা ফোন ধরেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনাদের কেউ আন্দোলনে গিয়েছে কি না। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আনাস আন্দোলনে গিয়েছে’। আমি ওনাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে আসতে বলি। আনাসের মা, বাবা ও নানা হাসপাতালে আসেন। আনাসকে দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।”
এ ঘটনার জন্য সৌরভ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গুলি চালানোর আদেশ দেওয়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেন। যারা গুলি চালিয়েছে, তাদেরও বিচার চান তিনি।