১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বাকে হত্যা, স্বামীর প্রাণদণ্ড

রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 02:11 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

দুই দশক আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। খালাস পেয়েছেন দণ্ডিতের ৯ স্বজন।

সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চতুর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ বলেন, “মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। 

“আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তারা খালাস পেয়েছেন।”

খালাস পাওয়ারা হলেন—আলী হোসেন, নান্টু মিয়া, নূর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আব্দুল খালেক।

রায় ঘোষণার আগে সানাউল্লাহ ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা বেগম পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসামিরা যৌতুকের জন্য পিংকিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ২০০৬ সালের ২ মে অপর আসামিরা সানাউল্লাহর কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাটের বাসায় গিয়ে জানতে চান, শ্বশুরবাড়ি থেকে কী কী জিনিস পেয়েছেন। ৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানান সানাউল্লাহ। 

অন্য কোনো মালামাল না পাওয়ায় আসামিরা সানাউল্লাহকে পরামর্শ দেন, পিংকিকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করার। আসামিরা চলে যাওয়ার পর তাদের প্ররোচনায় সানাউল্লাহ যৌতুকের জন্য পিংকিকে মারধর করে। গরম পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

পিংকির ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার কর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অন্তঃসত্ত্বা পিংকি। 

এ ঘটনায় পিংকির মা রাবিয়া বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা। অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। 

মামলার বাদী এতে নারাজি দাখিল করেন। পরে সব আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় দেওয়া হল।