১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

গুলশানের হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শাহে আলম রিমান্ডে

“শাহে আলমকে কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কখন আদালতে আনা হয়েছে; আমরা তার কিছুই জানতাম না,” বলেন আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন।

গুলশানের হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শাহে আলম রিমান্ডে
সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদার।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Sep 2024, 06:58 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:17 PM

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার গুলশান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র  মো. নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলম তালুকদারকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদর্স ছিলেন শাহে আলম। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রোববার শাহে আলমকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক রাজু আহমেদ। 

শাহে আলমের পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন হলেও তা নাকচ করে তাকে তিন দিনের রিমান্ড পাঠান মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান।

আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শাহে আলমকে কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কখন আদালতে আনা হয়েছে; আমরা তার কিছুই জানতাম না। যখন তাকে আদালতে তোলা হল, আমরা জানতে পেরে দ্রুত গিয়ে দেখি রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ। আমরা ভালোভাবে শুনানির সুযোগ পাইনি।

“আমরা খুবই সংক্ষিপ্ত কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা বলেছি, তিনি একজন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। এ ঘটনার সময় তিনি গ্রামে ছিলেন। তাকে শুধু রাজনৈতিক হয়রানি করার জন্য এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা তার রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করছি।”

শনিবার শাহে আলমকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় লোকজন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গুলশান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মো. নাইমুর রহমান (২২)। এ ঘটনায় তার বাবা খলিলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৪ জনকে আসামি করে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই গুলশানের শাহাজাদপুর মেইন রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলছিল। বিকেল ৪ টার পর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ৪০০ থেকে ৫০০ জন নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। এই হামলার ফলে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন।

এ সময় আসামিরা এলাপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকলে নাইমুর রহমানের বাবা খলিলুর রহমান আত্মরক্ষার জন্য পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি মুহুর্মুহু গুলির শব্দ এবং লোকজনের চিৎকার শুনতে পান। কিছু সময় পর গুলির আওয়াজ বন্ধ হলে তিনি বাইরে এসে ছেলেকে খুঁজতে শুরু করেন। 

দীর্ঘক্ষণ খোঁজার পর লোকমুখে জানতে পারেন যে, অনেক লোক আহত হয়েছেন এবং কিছু আহতকে বাড্ডা এএমজেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খলিলুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান তার ছেলে নাইমুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় সেখানে পড়ে আছে।

শাহে আলাম ছাড়া এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইফ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ।