Published : 22 Oct 2025, 11:52 PM
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে সকল ‘ক্রিয়াশীল’ রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সামনে অনেক উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পরে তার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সাধারণ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলাদা বৈঠকে এনসিপি ও জামায়াত নেতারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি, গণভোট এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ‘রোডম্যাপ’ নিয়েও আলোচনা করেন।
১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর তা বাস্তবায়নের পথ নিয়ে দলগুলোর মতভিন্নতার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার এ উদ্যোগ নিয়েছেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে থাকলেও এনসিপি সনদে সই করেনি মতভিন্নতার কারণেই।
মঙ্গলবার সন্ধায় বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারেরর প্রধান। আর বুধবার এনসিপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে শেষে যমুনা থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদল’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি ও জামায়াতে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
“আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আমরা ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি; সামনে আরও অনেক উদ্যোগ আপনারা দেখতে পাবেন,” জামায়াত নেতাদের আশ্বাস্ত করে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
বিকাল ৫টার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
এনসিপির প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন—দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামন্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
এরপর জামায়াতের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।

সেখানে জামায়াতের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের। অন্য সদস্যরা হলেন—জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা‘ছুম এবং রফিকুল ইসলাম খান।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সরকারের পক্ষ থেকে উভয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নির্বাচনের আগে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের রোডম্যাপ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এনসিপিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সনদ জাতির জন্য মহামূল্যবান সম্পদ; এখানে সবার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।”
সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে বলেও এনসিপিকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত নেতারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের ওপর গণভোটের দাবি জানান।
“জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট হওয়া প্রয়োজন, কারণ জুলাই সনদে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত,” বলেন তাহের।
তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি জামায়াতের পূর্ণ আস্থা থাকার কথাও বলেছেন দলটির নেতারা।
এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যেকোনো রদবদল তিনি নিজেই সরাসরি তদারকি করবেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন।
আরও পড়ুন:
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ‘সুযোগ নেই’: নাহিদ ইসলাম