০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম? প্রধান কৌঁসুলি বললেন, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল না

গত ৩১ অক্টোবর সাইমুম দেশ ছাড়েন বলে গুঞ্জন চলছে।

দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম? প্রধান কৌঁসুলি বললেন, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল না

সাইমুম রেজা তালুকদার

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 05:19 PM

Updated : 03 Nov 2026, 05:46 PM

‘কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া’ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

সাইমুম গত ৩১ অক্টোবর দেশ ছাড়েন বলে সাংবাদিকরা মঙ্গলবার প্রশ্ন করেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামকে।

জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “সাইমুমের বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তিনি কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।”

এদিকে দেশ ছাড়ার বিষয়ে মঙ্গলবার সাইমুম রেজা তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।”

ইতালি যাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কে বলছে ইতালি চলে গেছি? আমার এসব নিয়া কথা বলার ইচ্ছা নাই।”

যেভাবে অভিযোগের সূত্রপাত ও পদত্যাগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাইমুমের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন সাইমুমকে। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্য দায়িত্বে তিনি বহাল ছিলেন।

পরে গত ৯ মার্চ তিনি প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আমিনুল ইসলাম তার আবেদন মঞ্জুর করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।”

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া দুটিই অপরাধ। যারা তাকে অর্থ দিয়ে থাকবেন, তাদেরও দায় রয়েছে।”

তদন্তে বিলম্ব

ঘুষের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর ১০ মার্চ প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগসহ পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগও তদন্তের আওতায় রাখা হয়। আবজালুল এখন জামিনে কারামুক্ত অবস্থায় আছেন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রসিকিউটর মো. আবদুস সোবহান তরফদার, মার্জিনা রায়হান (মদিনা), মোহাম্মদ জহিরুল আমিন এবং প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ের সিনিয়র আইন গবেষণা কর্মকর্তা মো. ছিফাত উল্লাহ।

কমিটি ১১ মার্চ প্রথম বৈঠক করলেও গত আট মাসেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, “কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তিনিও কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির আরেক প্রসিকিউটর তার মায়ের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।”

সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য অভিযোগগুলোও কমিটি খতিয়ে দেখছে তথ্য দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে না পারলেও যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

‘কোটি টাকা ঘুষ দাবি’ পদত্যাগকারী প্রসিকিউটরের, অডিও ফাঁস