দেশে সমাজকর্মী বাড়ছে ২০০%

নতুন করে ৬ হাজার নিয়োগ হলে সমাজকর্মীর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ হাজারে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 01:59 PM
Updated : 19 Sept 2022, 01:59 PM

শিশুদের সুরক্ষায় দেশে আরও ছয় হাজার সমাজকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার; তাতে কর্মী সংখ্যা ৯ হাজারে উন্নীত হবে।

সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘শিশুর সুরক্ষায় প্রথম জাতীয় সম্মেলনে’ সরকারের তরফে এ ঘোষণা আসে বলে আয়োজক সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তিন বছর আগে এক জরিপে দেশের ১৫ বছরের কমবয়সী শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ বা সাড়ে ৪ কোটি শিশু নিয়মিত বাড়িতে সহিংসতার শিকার হওয়ার তথ্য উঠে আসে। এমন প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে সরকারের এ ঘোষণা এল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ ২০১৯ সালে জাতীয় গৃহস্থালি জরিপটি পরিচালনা করেছিল।

সোমবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এ সম্মেলন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বার্তায় সমাজে শিশু সুরক্ষা সেবা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি পেশাদার সমাজসেবা কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা, যাতে স্বেচ্ছাসেবক, কিশোর-কিশোরী ও কমিউনিটির লোকজন সম্পৃক্ত থাকবে। তারা ‘চাইল্ড হেল্পলাইন’ ১০৯৮, ‘চাইল্ড প্রটেকশন অ্যালাওয়েন্স’ ও কমিউনিটিভিত্তিক বিস্তৃত পরিষেবাগুলোর মত শিশু সুরক্ষা সেবা দক্ষতার সঙ্গে নিশ্চিত ও বৃদ্ধি করবে, যাতে কোনো শিশু এর থেকে বাদ না পড়ে।

গৃহস্থালি জরিপের ফল অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে শিশুশ্রমের ফাঁদে আটকা ৩০ লাখের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত আছেন ১৩ লাখ। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে না। আর জন্ম নিবন্ধন নেই প্রায় অর্ধেক শিশুর।

কন্যাশিশুদের প্রতি দুইজনের মধ্যে একজনকে শিশু থাকা অবস্থায় বিয়ে দেওয়া হয় জানিয়ে জরিপে বলা হয়, লাখ লাখ শিশু রাস্তায় বসবাস করে।

সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “সমাজকর্মীরা কমিউনিটির গভীরে পৌঁছে যান, যেখানে শিশুদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তাদের। আরও বেশি সংখ্যক শিশু যাতে উপকৃত হয়, সেই লক্ষ্যে সমাজকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই।“

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শিশুরা একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।  শিশুদের বিশেষ করে সবচেয়ে অরক্ষিত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের সহিংসতা, শোষণ ও নিগ্রহ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আজকের আয়োজন একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।”

বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষায় ইইউয়ের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, হাইকোর্টের বিচারপতি ও শিশু অধিকার সংক্রান্ত সুপ্রিম স্পেশাল কমিটির সদস্য বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক