কন্যাশিশু দিবস: অধিকার-নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে কন্যাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার তার বাণীতে বলেন, “আজকের কন্যাশিশু জাতির ভবিষ্যৎ। আগামী দিনের মানবসম্পদ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনাময় নাগরিক। সঠিক শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যেক কন্যাশিশু হয়ে উঠতে পারে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ।
“কিন্তু কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বাল্যবিবাহের ফলে সেই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই প্রতিটি কন্যাশিশুসহ দেশের সব শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু বিয়ে রোধ করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব”।
বর্তমান সরকারকে নারী ও কন্যাশিশুবান্ধব বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শিশু বিয়ে বন্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। দেশব্যাপী কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা বৃদ্ধি ও আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য। তাই বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধসহ কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য আমি আহ্বান জানাই।”
কন্যাশিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রতি সম্মান, সমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরিতে পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিকল্প নেই বলেও বর্ণনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কন্যাশিশুর মতামতের গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও তাগিদ দেন তিনি।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সুস্পষ্ট নীতি এবং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, কোনো মেয়ের স্বপ্ন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়- এটাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।
‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস।
প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেন, “প্রতিটি মেয়ের জন্য নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে তার সকল স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। বর্তমান সরকার সেই কর্তব্য পালনে বদ্ধপরিকর।
“কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদার প্রতি আমাদের সবার দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দিতে পারলে তারা গড়ে তুলবে আরও জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন বাল্যবিবাহ, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতায় থেমে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।”
নারীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে একটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, “নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অন্যতম একটি পদক্ষেপ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
“আমরা এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে। বাস্তব ও ডিজিটাল উভয় পরিসরেই তার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে আমাদের সবাইকে একযোগে ভূমিকা রাখা জরুরি।”
