১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিপুল অর্থে কুকি-চিনের কাছে প্রশিক্ষণ নেন ‘শারক্বীয়ার’ সদস্যরা: ডিবি

গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সমন্বয়ক এবং একজন নতুন সদস্য।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2025, 03:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:35 AM

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র গ্রেপ্তার তিন সদস্য পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) কাছ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ এ তথ্য জানান।

সোমবার এক বার্তায় ‘শারক্বীয়া’র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেদিন গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজধানীর কল্যাণপুর এবং গাবতলী থেকে রানা শেখ ওরফে আমির হোসাইন, মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার ও হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তবে কবে কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই তিনজনসহ ৪৯ জনই গ্রেপ্তার হল দাবি করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন বলেন, অধিকাংশ গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভিন্নভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সমন্বয়ক এবং একজন নতুন সদস্য, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার তিনজনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়, রানা শেখ মার্শাল আর্টে ব্ল‍্যাক বেল্টপ্রাপ্ত। ২০০২ সালে হুজিনেতা ও ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মাওলানা আব্দুর রউফের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য ময়মনসিংহে যান তিনি। সেখানে মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পুলিশের কাছে ধরাও পড়েন।

বর্তমানে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার হিসেবে রানা শেখ কর্মরত জানিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন বলেন, “রানা নতুন রিক্রুট কয়েকজনকে প্রশিক্ষণের জন্য পার্বত্য জেলায় কেএনএফের কাছে পাঠিয়েছেন। আর প্রশিক্ষণের বিনিময়ে রানা একাধিক কিস্তিতে লক্ষাধিক টাকাও পরিশোধ করেছেন।” 

গ্রেপ্তার মশিউর রহমান এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হওয়ার আগে ইসলামিক শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালে অন্য হুজি নেতাদের সঙ্গে গ্রেনেডসহ ঝালকাঠিতে গ্রেপ্তার হয়ে সাড়ে চার বছর সাজাও খাটেন তিনি।

ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, “মশিউর রহমান পাহাড়ি বৈরী পরিবেশে কমান্ডো হিসেবে টিকে থাকা, পিটি-প্যারেড, অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো, বোমা তৈরি এবং ব্যবহারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ২০২১ সালের প্রথম দিকে গিয়ে প্রায় দুইবছর বান্দরবনে কুকি-চিনের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে অবস্থান করেন।”

আর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মী হাবিবুর রহমান এই সংগঠনের নতুন সদস্য জানিয়ে তিনি জানান, রানা শেখের মাধ্যম তিনি এই সংগঠনে যোগ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেন, রানা শেখ এবং মশিউর রহমান বর্তমানে জামাতুল আনসারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নিষিদ্ধ শারক্বীয়ার ৩ সদস্য গ্রেপ্তারপুলিশ

সম্প্রতি বান্দরবনের রুমায় ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর কুকি-চিনের সদস্যদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চলছে। এরই মধ্যে সংগঠনটির বেশ কয়কজন সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

প্রায় দেড় বছর আগে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর প্রধান আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি দল হরকাতুল জিহাদ (হুজিবি), আনসার আল ইসলাম ও জামায়াতুল মুজাহিদিনের (জেএমবি) সদস্যরা মিলে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামের নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্ম দেয়।

পাশাপাশি সময়ে এই সংগঠনের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব। 

সে উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সে সময়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, ২০২১ সালে কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা নাথান বমের সঙ্গে শারক্বীয়ার আমিরের একটি সমঝোতা চুক্তি হয় যেখানে পার্বত্য অঞ্চলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। 

এই প্রশিক্ষণের বিনিময়ে মাসে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি কেএনএফ সদস্যদের খাবারের খরচও বহন করত শারক্বীয়া।