Published : 23 Sep 2025, 09:29 AM
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাংলাদেশ পড়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ‘সঠিক নয়’ বলে যে জানিয়েছে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। এমন ‘ভিত্তিহীন’ সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে বাংলাদেশিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে- এমন খবর সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে কথিত ভিসা প্রসেসিং সেন্টার ওয়েবসাইটের (uaevisaonline.com) কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
“দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছে যে, উক্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই জাতীয় ঘোষণা আমিরাতের কোন কর্তৃপক্ষ প্রদান করেনি।“
ওই ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডাকে ২০২৬ সালের ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রেখেছে আরব আমিরাত। কর্তৃপক্ষের পরিপত্র অনুযায়ী দেশগুলোর নাগরিকরা বর্তমানে ইউএই ট্যুরিস্ট ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারছেন না।
আবু ধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, uaevisaonline.com ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এটির নিবন্ধনকারীর যোগাযোগের ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর যুক্তরাজ্যের, কারিগরি যোগাযোগের ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর যুক্তরাজ্যের, নিবন্ধকের যোগাযোগের নম্বর যুক্তরাষ্ট্রের এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া কোম্পানির যোগাযোগ নম্বর ভারতের। কোম্পানির হেড অফিসের যে ঠিকানা দেয়া আছে, তা দুবাইয়ের।
“দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, ঠিকানাটিতে ব্যবহার করা বিল্ডিং বা বাসা নম্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই। কোম্পানিটির অতীত কর্মকাণ্ডের ওপর কাস্টমার রিভিউ দূতাবাসের কাছে আছে। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কাস্টমার আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।”
ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো সংবেদনশীল খবর প্রচার বা শেয়ারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরো দায়িত্ববান হওয়ার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
২০১২ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ রয়েছে। তবে ‘ইনভেস্টর ভিসায়’ এবং কোভিড পরবর্তীকালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য খুলে দেওয়া ভিজিট ভিসায় বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি সেখানে যান। অনেকেই স্পন্সর খুঁজে নিয়ে তাদের অবস্থান নিয়মিত করেন। বর্তমানে আমিরাতের শ্রম বাজারে ১০ থেকে ১২ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন।