Published : 10 Apr 2026, 05:11 PM
ঢাকার দুই ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ দিয়ে বাড়তি তেল মিলছে শুক্রবার থেকে।
এর দুই পাম্পের একটি আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন শনিবার থেকে অ্যাপ ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আর ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপধারীদের জন্য শুক্রবার থেকেই পৃথক লাইন করা হয়েছে। এ পাম্পে অ্যাপধারীদের দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকার তেল; আর অ্যাপ ছাড়া মিলছে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার তেল।
তবে সোনার বাংলা পাম্পে অ্যাপধারীদের দেওয়া হচ্ছে হাজার টাকার তেল; আর অ্যাপ ছাড়া গেলে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকার তেল। তবে এখানে অ্যাপধারীদের জন্য পৃথক কোনো লাইন নেই।
জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ‘ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন’ ও আসাদগেটের ‘সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে’ বৃহস্পতিবার থেকে এ সেবা চালু করার কথা জানিয়েছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এ ব্যবস্থায় ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি নিতে হচ্ছে।
প্রথম ধাপে শুধু ‘হ’ ও ‘ল’ সিরিজের নম্বরধারী মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এ ব্যবস্থা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
নতুন এ ব্যবস্থায় প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য একটি আলাদা ‘কিউআর কোড’ তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি মিলবে। স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে তা ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিপিসি এমন এক সময়ে এই ডিজিটাল সেবা চালু করেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন সারা দেশের বিভিন্ন পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে জ্বালানি সংগ্রহে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন।
বৃহস্পতিবার থেকেই গ্রাহকরা অ্যাপে নিবন্ধন করে এই দুই পাম্পে যাওয়া শুরু করে। তবে সেদিন অ্যাপধারীদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে সোনার বাংলা পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের লাইন প্রায় দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। পাম্পে অ্যাপধারীদের সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। আর অ্যাপ ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে পাঁচশ টাকার।
পাম্পের এক কোণে হলুদ গেঞ্জি পরা কিছু স্বেচ্ছাসেবক তেল নিতে আসা লোকজনকে অ্যাপে নিবন্ধন করতে সাহায্য করছেন। পাম্পে একটি হ্যান্ড মাইকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে যে, শনিবার থেকে এই পাম্পে অ্যাপ ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হবে না।

পাম্পে তেল নিতে আসা ফুয়াদ নামের একজন শিক্ষার্থী উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের ঘোষণায় তো বৃহস্পতিবার থেকেই অ্যাপে তেল দেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে এসে দেখি আলাদা কোনো লাইন নেই।
“এই দেড় কিলোমিটার লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এসে অ্যাপের কিউআর কোড শো করলে বাড়তি পাঁচশ টাকার অর্থাৎ মোট এক হাজার টাকার তেল মিলছে। তবে ভালো বিষয় হচ্ছে শনিবার থেকে নাকি এখানে অ্যাপ ছাড়া আর কাউকে তেল দেওয়া হবে না। এটা সব পাম্পে হলে ভালো হয়।”
ট্রাস্ট পাম্পে গিয়ে দেখা গেল, মোটরসাইকেলের নিয়মিত লাইনের বাইরে অ্যাপধারীদের জন্য পৃথক আরেকটি লাইন করা হয়েছে, যেটি উল্টোপথে একেবারে বিজয় সরণির মোড়ে গিয়ে ঠেকেছে।
বাইকারদের অভিযোগ, নিয়মিত লাইনে যে সময় লাগতো, এখানেও সেই সময়ই লাগছে। তবে বাড়তি দুইশ টাকার তেল মিলছে।
পাম্পের নাঈম নামের এক কর্মী বলেন, “অ্যাপে এলে ১২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, এমনিতে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ হাজার টাকার।”
তেলের লাইনে দাঁড়ানো শোভন হাসান নামে এক বাইকার বলেন, “অ্যাপের আলাদা লাইন করে দিয়েছে, কিন্তু লাইন তো টানে না।“