Published : 28 May 2026, 10:14 AM
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মজলুম জনতার হেফাজাতে মহান প্রতিপালকের কাছে দুই হাত তুলে মোনাজাত হয়েছে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, বয়সের হাজারো মানুষ দুই হাত তুলে এই মোনাজাতে অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৭টা এই ঈদ জামাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, কূটনীতিক, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেন।
নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য মোনাজাত করেন আবদুল মালেক।
সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে দু’হাত তুলে তিনি বলেন, “ইয়া আল্লাহ, কবুলিয়তের এই মুহূর্তে আমরা আমাদের সকল মজলুম ভাইদের স্মরণ করছি। ইয়া আল্লাহ, আপনি মেহেরবানি করে সকল মজলুম ভাইদেরকে হেফাজত করেন। ইয়া আল্লাহ, সকল মজলুমদেরকে আপনি হেফাজত করেন।
"ইয়া আল্লাহ, জালিমদেরকে বন্দি করে দেন মওলা। ইয়া আল্লাহ, জালিমরা যাতে কারও উপর জুলুম না করতে পারে, ইয়া আল্লাহ আপনি সেই ইন্তেজাম করে দেন মওলা মেহেরবানি করে। ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, সকল মজলুমদেরকে আপনি জুলুম থেকে হেফাজত করেন।"

তিনি বলেন, " জালিমদের উত্তম বিচার আপনিই করতে পারেন মওলা। ইয়া আল্লাহ, পুরা বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানরা মজলুম হয়ে আছে, নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে পারছে না। কোরবানির ইবাদত আপনার নৈকট্যের জন্য, আপনি শিখিয়েছেন ইয়া আল্লাহ, সেই ইবাদত তারা স্বাধীনভাবে আদায় করতে পারছে না।
"ইয়া আল্লাহ, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু, ইয়া আল্লাহ মুসলমানরা যেখানে সংখ্যালঘু সেখানে তাদের জানমালের নিরাপত্তা কিছু থাকে না ইয়া আল্লাহ। ইয়া আল্লাহ, আপনি এই জুলুম থেকে আমাদেরকে হেফাজত করেন। পুরা মুসলিমদের হেফাজত করেন। ইয়া আল্লাহ, পুরা মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করেন।”
এ সময় সরকারের 'হিম্মত' ও 'নেক হায়াত' কমনা করেও দোয়া করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব।
"আমাদের দেশের মাননীয় সরকারকে মওলা, আপনি মেহেরবানি করে হিম্মত, নেক হায়াত, সুস্থতা বাড়িয়ে দেন মওলা, হায়াত বাড়িয়ে দেন মওলা, হায়াত বাড়িয়ে দেন মওলা।
"আপনার দ্বীনের হেফাজত আপনিই হেফাজত করেন মওলা। নেক কাজের সুযোগ করে দেন। ইয়া আল্লাহ, আপনি মেহেরবানি করে আমাদেরকে নেক কাজের তৌফিক দান করেন।”
যারা এবছর কোরবানি দিতে পারছেন না, তাদের পাশে অন্যদের দাঁড়ানোর জন্যও দোয়া করা হয় মোনাজাতে।

জামাত শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যরা পরস্পর কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এবার সব ঈদ জামাত ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যারা ঈদ জামাতে অংশ নিতে এসেছেন, তাদের যেতে হয়েছে তল্লাশির মধ্য দিয়ে।
ঈদুল আজহার আগের দিনও দফায় দফায় বৃষ্টি ছিল। তাই বৃহস্পতিবার ঈদের প্রধান জামাত নিয়ে ছিল বাড়তি সতর্কতা। ঠিক হয়েছিল, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ঈদগাহে জামাত শুরু করা সম্ভব না হলে বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত হবে।
তবে সকালে ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। ফলে প্রধান জামাতের স্থান বদলেরও প্রয়োজন পড়েনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মেলায় আবহাওয়ারও উন্নতি হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে ঈদগাহের সামনের রাস্তায় জায়নামাজ ও চাদর বিছিয়ে নামাজে অংশ নেন।
ঈদ জামাত শেষে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন পশু কোরবানির তোড়জোড়ে।