এর আগে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন।
Published : 31 Dec 2023, 06:49 PM
রাজধানী থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
ডেমরা থেকে গত শুক্রবার সংগঠনটির শীর্ষ নেতা ইউসুফ ওরফে ইউসুফ হুজুর (৩৮) ও তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম জহিরকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এবছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও সর্বশেষ ২৮ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সিটিটিসি অভিযান পরিচালনা করে নব্য জেএমবির মোহাম্মদ আলী, সজিব, মুহাম্মাদ নাইম হাসান, হাসিব খান, সোয়েব আখতার ও শরিফকে গ্রেপ্তার করে।
তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, তাদের শীর্ষ নেতা হলেন ইউসুফ হুজুর, আর অপারেশনাল কমান্ডার আবু বকর। এ তথ্য পেয়ে ইউসুফ ও বকরকে গ্রেপ্তার করার জন্য সিটিটিসি গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
পুলিশ কর্মকর্তা আসাদ জানান, এর আগে ২০১৭ সালে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ নেতা ইউসুফ ও তার সহযোগী আবু বকরকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে আত্মগোপনে যান। আত্মগোপন থাকাকালে ইউসুফ ও বকর বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নব্য জেএমবি'র সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর ২০২২ সালের কোরবানির ঈদের পর দেশে ফিরে আসে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ফিরে তারা নতুনভাবে নব্য জেএমবি'র সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ৩ নভেম্বর আবু বকরকে সিটিটিসি গ্রেপ্তার করা হয় ।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু বকর জানায় যে, তাদের আরেক শীর্ষ নেতা মেহেদী হাসান জন তুরস্কে গ্রেপ্তার হতে পারে এমন সন্দেহে ইউসুফ হুজুর ও আবু বকর বাংলাদেশে চলে আসে।
ইউসুফ হুজুর বাংলাদেশের সংগঠনের প্রধান ও আবু বকর অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, “আবু বকরের মোবাইল ফোন অনুসন্ধান করে গত দুর্গাপুজায় পুজামন্ডপে তাদের হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বিভিন্ন পুজামন্ডপ 'রেকি' করে এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। কিন্তু গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যহত থাকার কারণে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।”
এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “আবু বকর থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায় যে, রাজধানী ডেমরা এলাকায় ইউসুফ ও তার অপর সহযোগী জহির এবং অন্যান্য সদস্য মিলে একটি গোপন বৈঠক করবে। সেই তথ্যে ২৯ ডিসেম্বর ইউসুফ ও তার সহযোগী জহিরকে গ্রেপ্তার করা হয় “
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “জেএমবির শীর্ষ নেতা মেহেদী হাসান জন তুরস্কে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। জনকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।”