Published : 21 May 2026, 09:54 PM
হামের টিকা ক্যাম্পেইনে যারা বাদ পড়েছে, তাদের বৃহস্পতিবার থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
এদিন বিকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে তিনি বলেন, বাদ পড়াদের এই টিকাদান কর্মসূচি কোরবানির ঈদের পর পর্যন্ত চলবে। টিকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও প্রচারও চালানো হচ্ছে।
হামের টিকা ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে বলে সেমিনারে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বাদপড়াদের নিয়ে তিনি বলেন, তাদের টিকা দিতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব শিশুকে টিকা আওতায় আনা হবে।
আওয়ামী লীগের সময়ে ২০২০ সালের পর কোনো ধরনের টিকা কার্যক্রম না চলার তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তারা থাকাকালীন এমআর এর কোনো টিকা কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। অন্তবর্তী আমলেও প্রায় ১৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী ৯ মাস ধরে বেতন পায়নি।
“আমরা তাদের বেতন দ্রুতই দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুতই তাদের বেতন দিতে পারব।”
মন্ত্রী বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত আইসিইউ ছিল না, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর ছিল না, বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্টের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনাই ছিল না। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যখন যাই, তখন থেকেই আমরা এ বিষয়ে (হাম) পূর্ণ নজরদারি শুরু করি।”
দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন না হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানের শিশুরা অনেকে অপুষ্টিতে ভুগছেন, যার অন্যতম একটি কারণ ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন না হওয়া। আমার ভিটামিন এ ক্যাপসুল নিয়ে আসার ব্যাপারে কথা বলেছি। আশা করি ঈদের পর এ ক্যাম্পেইন শুরু করতে পারব।”
সেমিনারে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “টিকা কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। কোনোভাবেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দুর্বল করা যাবে না।
“আমরা আগের বিভিন্ন ব্যর্থতা ও সংকটের বিষয়ে কথা বলতে চাই না। কারণ সেসব নিয়ে কথা বলে আমরা চারশ শিশুকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারব না। আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। আগের সময়ে প্রায় সবারই হাম হয়েছে। তবে এটি নিয়ে কোনো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।”
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম সেমিনারে হাম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুসাররাত সুলতানা সুমী এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুফিয়া খাতুনও সেমিনারে কথা বলেন।