ঢাকায় দূতাবাস খুলবে উজবেকিস্তান, তাসখন্দ রুটে চলবে ফ্লাইট

ঢাকা সফররত উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 04:05 PM
Updated : 29 July 2022, 04:05 PM

ঢাকায় উজবেকিস্তানের দূতাবাস খোলার পাশাপাশি তাসখন্দ রুটে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদেশের সরকার।

ঢাকা সফররত উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভের সাথে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, “ঢাকায় উজবেকিস্তানের দূতাবাস চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে উজেবেকিস্তান।

”এছাড়া, ঢাকা-তাসকেন্ত রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।”

বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়ক তৃতীয় ইন্টার-গভার্নমেন্টাল কমিশন সভায় যোগ দিতে ঢাকা সফর করছেন উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী খোদজায়েভ।

উপপ্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততার মধ্যে বিকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তার বৈঠক হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ২০২১ সালে নিজের উজবেকিস্তান সফরে সে দেশের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতে ঢাকায় মিশন চালুর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় উজবেকিস্তানের কূটনৈতিক মিশন খোলার ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও তিনি উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন।

দুই দেশের মধ্যে আগের মত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জোর দিয়েছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনায় কোড শেয়ারিং পদ্ধতির নিয়েও আলোচনা হয়।

”ঢাকা-নয়া দিল্লি রুটে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট এবং নয়া দিল্লি-তাসখন্দ রুটে উজবেক এয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট দুটোর মধ্যে কোড শেয়ারিং পদ্ধতিতে দুদেশের জনগণ ভ্রমণ করতে পারবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া, পরবর্তীতে চাহিদা বিবেচনা করে ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।”

উজবেক উপপ্রধানমন্ত্রী খোদজায়েভ বাংলাদেশ এবং উজবেকিস্তানের মধ্যে মুঘল আমল থেকে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা স্মরণ করেন।

তিনি দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কূটনীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উজবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ইরানের চাবাহার বন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হলে উজবেকিস্তানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে খরচ কমবে এবং বাণিজ্য বাড়বে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উজবেকিস্তান থেকে তুলা আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলে উজবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তুলা আমদানি করে ‘ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে’ বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানিও করতে পারে।

উজবেকিস্তান থেকে সার আমদানি ও সেদেশে উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়েও আলোচনা করার কথা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

তিনি বলেন, “উজবেকিস্তানের বিপুল পরিমাণ গ্যাস আছে। কিন্তু তারা অত বেশি সার উৎপাদন করে না। সার উৎপাদনে কীভাবে সম্পৃক্ত হতে পারি। তাদের সেখানে সার উৎপাদন করে যদি আনতে পারি, তাহলে উভয়ের জন্য ভালো হবে।”

ঔষুধ শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় উজবেকিস্তানও শরিক হতে পারে। ইতোমধ্যে আফ্রিকার কিছু দেশে বাংলাদেশি বিনিয়োগে ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

”ফার্মাসিউটিক্যালসে আমাদের দেশ ভালো করছে। আমরা প্রায় ১১৭ দেশে বিক্রি করতে করছি। তারাও প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা যদি তাদের দেশে ফার্মাসিউটিক্যালসে ইনভেস্ট করি, আমাদের এগুলিতে সুবিধা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক