২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিবেশী ৪ দেশের সাবেক নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির মতবিনিময়

এসব দেশে নির্বাচন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে, তা নিয়েই মূলত তথ্যের আদান-প্রদান হয়েছে, বলেন ইসি সচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Oct 2023, 06:41 PM

Updated : 29 Oct 2023, 06:44 PM

ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।

রোববার নির্বাচন ভবনে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম (ইএমএফ) এর নেতৃত্বে চার দেশের নির্বাচনী সংস্থার সাবেক পাঁচজন প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, ইএমএফ এর ব্যানারে পাঁচজন বিদেশি অতিথিসহ একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের কাছে আগেই সময় চেয়েছিল। সে অনুযায়ী এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলে ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কোরাইশি, মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মুয়াদ তৌফিক, শ্রীলংকার আরএমএএল রথনায়েক, নেপালের সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাগুন শামসের জে বি রানা ও ইলা শরমাসহ ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

“তাদের দেশে নির্বাচন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে, আমাদের নির্বাচন কমিশন কীভাবে কাজ করে সেটা নিয়েই মূলত তথ্যের আদান-প্রদান হয়েছে,” বলেন ইসি সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিনিধিরা বৈঠকে কোনো পরামর্শ দেননি। বরং সংশ্লিষ্ট দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

জাহাংগীর আলম বলেন, “এখানে শুধু তাদের প্রসিডিউর, সিস্টেম ও আমাদের নির্বাচনী প্রসিডিউর-সিস্টেমের আদান-প্রদান হয়েছে। নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কায় সেসব দেশে নির্বাচন কীভাবে হয় আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকে এডাপ্টেশনের যদি সুযোগ থাকে, তাহলে কমিশন সেটা নেবে।”

তফসিল ঘোষণার অনুকূল পরিবেশ বিষয়ক এক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সব কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।

ভারতে ইসির দায়িত্ব অন্তবর্তীকালীন সরকারের মতো

ভারতের সাবেক সিইসি এস ওয়াই কোরাইশি মনে করেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের যে সমস্ত ক্ষমতা আছে, সেই সমস্ত ক্ষমতা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনেরও আছে।

 “একটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে। তাদের ওপর কেন বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না তার কোনো কারণ আমি দেখি না।”

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন দৃশ্যত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো দায়িত্ব পালন করে। ভারতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সর্বময় ক্ষমতা পায়। এতে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়ে।

অংশগ্রহণমূলক ভোট চায় ইএমএফ, রাজনৈতিক বিভেদে হতাশ ইসি

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের পরিচালক ও মুখপাত্র আব্দুল জব্বার খান বৈঠকের বিষয়ে বলেন, ইসির কাছে প্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কেমন তা জানতে চায়। ইসি জানিয়েছে, সার্বিকভাবে ভালো প্রস্তুতি এগোচ্ছে। আগামী নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় ও প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন না হয় তা নিয়ে সরকারের আন্তকিতা রয়েছে।

“এটি যেন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হয়। সে ব্যাপারে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেগুলো নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার মনোভাব প্রকাশ করেছে সরকার।”

নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোয় মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।

ইএমএফ মুখপাত্র বলেন, “তাদেরকে দুইবার সংলাপের চেষ্টা করেও ইসি সংলাপে বসতে পারেনি এবং সেই কারণে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটু হতাশা আছে আমরা যেটি বুঝলাম। তাদের সঙ্গে ইসি যদি সংলাপে বসতে পারতেন। তাহলে হয়তো অনেক সমস্যারই সমাধান হতে পারত।”

নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ইসির উদ্বেগ থাকলেও কমিশন সবার সহযোগিতায় তা মোকাবেলার প্রত্যাশা করছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের সাবেক সিইসিকে উদ্ধৃত করে ইএমএফ মুখপাত্র বলেন, “ভারতে কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সময়ে অনেকটা কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের মত করে কাজ করে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এখানে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

পুরনো খবর:

কয়েক মাসের মধ্যে ‘রাজনৈতিক সমঝোতার’ প্রত্যাশা সিইসির
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর সম্ভব নয়: ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম
ইসির ‘প্রস্তুতি ও সক্ষমতা’ জানল ইইউ প্রতিনিধি দল