Published : 29 Jun 2026, 10:04 PM
নির্বাচনের সময় জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ধোঁকাবাজি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন আনু মুহাম্মদ।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
'রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ' এ সভা আয়োজন করে, যেখানে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগ তোলেন কোনো কোনো বক্তা।
আনু মুহাম্মদ বলেন, “এই যে নির্বাচনি ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি, এগুলো বললে তারা একটু হাসবে হয়তো। কারণ, এগুলো তাদের অভ্যাস। এই ধোঁকাবাজিটা তাদের রাজনীতিরই একটা অংশ।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, “এমনিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিল নেই, একজন আরেকজনকে দেখতে পারে না। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো বন্ধ করা বা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো নীতির ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় না।"
আশির দশক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের ধারা চলছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, "নীতি প্রণয়নকারীদের কোনো পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন হয় শুধু বাস্তবায়নকারীদের চেহারা। এ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় না।"
বাস্তবায়ন না করার কারণ হিসেবে যেসব যুক্তি সামনে আনা হয়, সেগুলোকে ‘প্রতারণা ও মিথ্যাচার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও করণীয়’ শিরোনামের এ সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক মাহা মির্জা বলেন, “সব সরকার শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা বলে বাস্তবে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারে।
"পাটকল বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটকলের শ্রমিকরা। তারা শ্রমের প্রাপ্য মজুরি এখনো পাননি।"
সভায় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
>> চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত করতে হবে এবং আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান সরকারের আমলে দেওয়া সব লিজ চুক্তি পর্যালোচনা করে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে হবে;
>> পেশাদার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, পাট বিজ্ঞানী, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে;
>> বন্ধ ও রুগ্ন পাটকলগুলোর আধুনিকায়নে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।
>> ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ শতভাগ কার্যকর করতে হবে এবং
>> সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম।
এতে অন্যদের মধ্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক শামীম ইমাম ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালা বক্তব্য রাখেন।