Published : 02 May 2026, 01:54 PM
সবশেষ ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকার একটি খুনে আবারো আলোচনায় আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলছেন, এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘তেমন নেই’।
তিনি বলেন, যেভাবেই হোক, যারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তাদের দমন করা হবে।
শনিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের সময় এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি প্রধান সরওয়ার এ কথা বলেন।
গেল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে মাস্ক পরিহিত দুজন মোটরসাইকেল আরোহী। পরে পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০১ সালে পুলিশ যে ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকা প্রকাশ করে সেখানে টিটনের নামও ছিল। তার ভগ্নিপতি আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমন। তারা দুজনই মোহাম্মদপুরের ‘সন্ত্রাসী চক্র’ হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন।
এর প্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিনা, জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসী তেমন নেই, যারা আছে তারা আগের শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী বা ওরকম সাজতে চাচ্ছে।”
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুলিশের তালিকার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমাদের তালিকা হালনাগাদ সবসময় হচ্ছে। আমাদের মনিটরিং, অবজারভেশন…ব্যবস্থা সবই নেওয়া হয়েছে এবং হালনাগাদ করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার ‘কিছু নেই’ বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে হোক, যারা আছে তাদের (শীর্ষ সন্ত্রাসীদের) নাম ভাঙ্গাচ্ছে অথবা যারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করতেছে, তার আগেই আমরা তাদেরকে দমন করব।”
এর আগে ডিএমপি কমিশনার পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের বিষয়ে বলেছেন, কারওয়ানবাজার এলাকায় অপরাধ ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনতে ক্যাম্পটি চালু করা হয়েছে। যারা স্থানীয় ব্যবসায়ী তারা এই ক্যাম্পে গোপনে অথবা প্রকাশ্যে এসে অভিযোগ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাম্পে ২০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এর পেছনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবিসহ অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে, বলেন তিনি।
ঢাকায় চাঁদাবাজসহ সকল অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে দাবি করে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অচিরেই ঢাকা মহানগরী এলাকায় চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করে মহানগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার প্রত্যাশার কথাও বলেছেন তিনি।
“ব্যবসা বাণিজ্য যারা করেন, পরিবহন ব্যবসায়ী, কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য যারা আছেন, তাদেরকে আমরা ‘কমফোর্ট’ দিতে পারব। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের উপরে প্রভাব পড়বে, দ্রব্যমূল্য কমে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
থানায় পুলিশের মামলা নিতে অনীহা, এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার সরওয়ার বলেন, “থানার কাজই হল মামলা নেওয়া। মামলা যদি না নেয়, থানার উপরে আমাদের ২৪টা জোনাল এসির অফিস আছে, এই অফিসে আপনারা যাবেন। এরপরে আমাদের আটটা ক্রাইম ডিভিশনের ডিসি আছে। এখানে আপনারা অভিযোগ করবেন বা যোগাযোগ করবেন।”
মামলা নিতে দেরী করালেও যে মামলা নিচ্ছে না তার বিরুদ্ধে অভিযোগসহ পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পুলিশ সদস্যের অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অপরাধের সাথে পুলিশের জড়ানোর কোন সুযোগ নাই।”
তারপরও ‘গোপনে বা অন্যভাবে’ কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এমনকি কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্প ঠিকমতো কাজ না করলে আমাদেরকে জানাবেন। তারা কোনকিছুর সাথে যদি জড়ায়ে পড়ে অবশ্যই আমাদের ‘নলেজে’ দিবেন।”
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কেউ যদি মনে করেন প্রকাশ্যে তথ্য দিবেন না, তারা চাইলে গোপনে ক্যাম্পে যে কোনো তথ্য দিয়ে যেতে পারবেন। ‘সর্বোচ্চ গোপনীয়তা’ রক্ষা করে সে অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।