Published : 22 Jul 2025, 06:19 PM
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে এসে আটকা পড়া আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার পুলিশি পাহারায় বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তারা পতাকাবিহীন সরকারি গাড়িতে চেপে সামনে পেছনে কয়েকশ পুলিশের পাহারা নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্কুলের বাইরে গোল চত্বরে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অবস্থানের কারণে তারা আবার ভেতরে ফিরে যান।
এই স্কুল ক্যাম্পাসে সোমবারের বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ছয় দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
বেলা পৌনে ১০টায় ঘটনাস্থলে এসে তোপের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এসময় তাকে দেখে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি দেখেও একই স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা ‘উই ওয়ান্ট, জাস্টিস', ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইন উপদেষ্টা। শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
ওই বৈঠকের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেরিয়ে এসে আসিফ নজরুল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সব দাবি ‘মেনে নেওয়ার’ আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “আপনারা যে দাবিগুলো করেছেন, ছয় দফা দাবি সেটার সাথে আমরা সম্পূর্ণ একমত। এবং আপনারা যে দাবি করেছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি।
"আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করব। আমাদের ওপর আপনারা বিশ্বাস রাখেন।"
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে ‘যারা খারাপ ব্যবহার করেছেন’ তাদের বিরুদ্ধেও ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে’ আশ্বাস দেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “এছাড়া আপনাদের সাথে যে বাহিনীরা খারাপ ব্যবহার করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষমাচাচ্ছি। এবং এই ব্যাপারে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
আইন উপদেষ্টা কথা শেষ হওয়ার পরপরই তাদের দিকে তেড়ে যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। দুই উপদেষ্টা এবং প্রস সচিব তখন স্কুলের সম্মেলন কক্ষে চলে যান।
শিক্ষার্থীরা তখন বাইরে দাঁড়িয়ে 'লাশ নিয়ে রাজনীতি, চলবে না চলবে না', 'আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই জবাব চাই', ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান ধরেন।
দুপুর সোয়া দুইটার দিকে উপদেষ্টারা বের হবেন শোনার পর শিক্ষার্থীদের একটি দল মূল ফটক আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের একটি ডাবল কেবিন পিকআপও ভাংচুরও করা হয়।
এ সময় কয়েক প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ আসতে দেখা যায়। বিকেল ৩টার দিকে এক প্লাটুন এপিবিএন, কয়েক প্লাটুন ডিএমপির রিজার্ভ পুলিশ, এক প্লাটুন এটিইউ আসে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে।
শিক্ষকরা এ সময় শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে দেন এবং বের হয়ে যেতে বলেন। বাড়তি পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভ থামিয়ে শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়লেও কিছুক্ষণ পর তারা স্কুলের বাইরে গোল চত্বরে অবস্থান নেন।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৫ নম্বর ভবনের কাচ ভাংচুর শুরু করলে উপদেষ্টারা ভবনটির নিচ তলার সম্মেলনকক্ষ ছেড়ে উপরের কোনো একটা তলায় অবস্থান নেন। পরে তৃতীয় তলা থেকে তাদের নেমে আসতে দেখা যায় ।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপদেষ্টাদের গাড়ি মূল ফটক থেকে বের হলে সেখানেই শিক্ষার্থীরা আটকে দেন। ১৫ মিনিট সেখানেই অবস্থানের পর তাদের গাড়ি ফের স্কুলের ভেতর ঢুকতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা গোল চত্বরেই সড়ক অবরোধ করে বসে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছেন। তাদের পেছনে সতর্ক অবস্থান করছেন পুলিশের সদস্যরা।
শিক্ষার্থীদের ছয় দাবি হল-
>> নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ করা
>> আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা।
>> শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জনসম্মুখে সেনা সদস্যদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।
>> নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
>> বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো উড়োজাহাজ বাতিল করে আধুনিক উড়োযান চালু করা।
>> বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আরও ‘মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা’ চালু করা।
সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৭ জন নিহত হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৭৮ জন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।