Published : 11 Aug 2026, 05:43 PM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফেরদৌসী আক্তার মেরী নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় এক যুগ পর খালাস পেয়েছেন তার স্বামী।
মঙ্গলবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এলিনা আক্তার মামলার রায় ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক রায়ের তথ্য দিয়েছেন।
খালাস পাওয়া ওই ব্যক্তি হলেন- মো. আব্দুর রহিম। ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে ‘মুখচেপে ধরে হত্যার’ অভিযোগ করা হয়েছিল রহিমের বিরুদ্ধে।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম লিটব বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৫ সালে মেরীর সঙ্গে রহিমের বিয়ে হয়। ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরলে স্ত্রীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রহিম। একপর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে ধমক দেন। তখন রেগে গিয়ে স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন তিনি। লাথি মারেন। এরপর খাটের ওপর ফেলে মুখ চেপে ধরেন। পর দিন সকালে মেরীর মরদেহ খাটে পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় শুরুতে অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে মেরীর মা হাসিনা বেগম মেয়ের জামাই ও তার বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করেন। তবে অভিযোগ না পাওয়ায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এর বিরুদ্ধে নারাজি দেন হাসিনা বেগম।
আদালত সিআইডিকে মামলা অধিকত তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন সিআইডির পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক খান। রহিমের মা-বাবাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় অভিযোগপত্রে।
২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ নেয়।
আত্মপক্ষ শুনানিতে রহিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে তার পক্ষে তিনজনের সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় দিল।