বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি: বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমন কারাগারে
চার দিনের রিমান্ড শেষে সাইমনকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের মামলায় হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে সাইমনকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বলেন, “আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত সাইমনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।"
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সোহাগ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে সোহাগের মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। আহত সোহাগ প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেনের সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে এসে আবারও সোহাগকে মারধরের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়।
এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা তাদের তিন জনকে ধরে ফেলে। সাইমান ফাঁকা গুলি করলে লোকজন তাকেও আটক করে। পরে এ ঘটনায় সোহাগ হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় অপর তিন আসামি ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওনকে তিনদিনের রিমান্ড শেষে সোমবার কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন এসআই আরিফ রেজা।
গত শুক্রবার সাইমনের চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
